দেখলে হবে? খরচা আছে…

দেখলে হবে? খরচা আছে · অনির্বাণ দাশগুপ্ত

খরচা’র কি মহিমা! হেয়ার আর স্কিন, এই দুটো মিলিয়ে অ্যাকচুয়াল বাজেট’টা হবে হয়ত হাজার আটেকের মত। তবে খেলা শুরুর আগেই কমপক্ষে ছয়, সাড়ে ছয়’য়ের ধাক্কা। তা’ও আই-ব্রো, ট্যান-রিমুভাল, আই-ল্যাশ এক্সটেনশন, ওয়াক্সিং, পেডিকিওর, আর ম্যানিকিওর’টা এবারকার মত ডান। মানে সাড়ে-পাঁচ, ছয় মতন অলরেডি খতম। আর ফেসিয়াল? সে প্রশ্রয়’টা তো কন্টিন্যু চলতেই থাকে ফি-মাসে। রুটিন ব্যাপার! তা’ও এবারটা পূজোর মাস বলে, পার্লারের মেয়েটা কি’একটা প্রি-পূজো স্পেশাল কুপন-কোড দিল, আর সেই সুবাদে হট-অয়েল ট্রিটমেন্টটা’ও টুক করে হয়ে গেল। ব্যাস আর কি চাই? চল বংশী, এবারে মারকাটারি পূজো! রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্টের লালচ’এর  হিসেবে পাঁচ-বছর কেন, পাঁচ দিনেই ডবল। ঈশ.. কি মজা! পঞ্চমীতেই ঠাকুর বসে যাচ্ছে। মিনস, মোচ্ছব স্টার্ট! আর পার্লারটা’য় আগে থাকতে বলা আছে। সকালে চুলটাকে ঝট করে একটা ব্লো-ড্রাই করে আসতে হবে। সঙ্গে একটা কুইক কেরাটিন ট্রিটমেন্ট। মোট কথা, উড়নতুবড়ি হয়ে তছনছ করে দিতে হবে এলাকার সব হ্যাংলা পুং’কে। কুচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, পুরুলিয়া থেকে পানিহাটি, বেহায়ারা সব আড়চোখে দেখবে আর হাবুডুবু খাবে।

ভারী তৃপ্তি লাগছে ভাবতে! এক্সএক্সএল মার্কা আধমরা শকুনগুলো সারাবছর চরম গুমোর নিয়ে হেলেদুলে ঘুরে বেড়ায়। পূজোর পাঁচটা দিন সব’কটা আকুলিবিকুলি হয়ে বেবাক ঝাড়ি মারবে আর হাল্কাহাল্কা ল্যাজ নাড়বে। ষষ্ঠী সকালের ঢাকাই জামদানীটা দেখলে তো, কথাই নেই! সে বেড়েপাকা মেয়ে হোক আর নাদান মদ্দা। টোটাল এলাকা সাজের সুনামিতে ভেবড়ে যাবে। গ্যারান্টি। দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতন ফুলবি। চ্যালেঞ্জ নিবিনা শালা! এমন দোবো না, পূজোর পয়লা মর্নিংয়েই ম্যাল্কম মার্শালের বলে, চোখ ড্যাবডেবাতে গিয়ে গাভাস্কার, সচিন, বিরাট কোহলী, মানে পুরুষশাসিত সমাজের সব সর্ববিদিত হিরোরা ক্লিন-বোল্ড। গোটা ইডেন গার্ডেনস জীবন্ত স্ট্যাচু, স্পিকটি নট! দেখলে হবে? খরচা আছে! ফার্স্ট ডে, ফার্স্ট শো বলে কথা!

“আশ্বিনের মাঝামাঝি, উঠিল বাজনা বাজি, পূজার সময় এল কাছে”। এদিকে মধু’রা আর বিধু’রা আনন্দে দু-হাত তুলে ইতিমধ্যেই নাচানাচি শুরু করে দিয়েছে। মানে ভেরি সিম্পল, ফুলের মাতাল গন্ধে তাবৎ ভোমরারা মাতোয়ারা। মানে কাপুরুষ, মহাপুরুষ, গাঁইয়াপুরুষ, স্মার্টপুরুষ, সুপুরুষ, কুপুরুষ, ষষ্ঠী-তৎপুরুষ, তেল চপচপে চুল, থলথলে ভুঁড়ি, চকচকে টাক, সকলের’ই লালা ঝরছে কেস। এই সময়টাতে পুরুতমশাই অবহেলায় পড়ে থাকা দশকর্মা নিয়ে চাট্টি কিছু বললেই হল। শাড়িটা গাছকোমর করে চ্যাটার্জি গিন্নিকে এমব্যাপে স্টাইলে ড্রিবল করে, ঠাকুরের স্টেজে তড়বড়িয়ে উঠে, থেবড়ে বসে, পুজোর কাজে ইনস্ট্যান্ট হেল্প শুরু। এদিকে মনেমনে বলছে, ওরে ভোঁদড় ফিরে চা, আর মুখে বলছে উফ বাবা! কি ভয়ানক গরম স্টেজের উপরটায়, ঠাকুরমশায় আপনি বসে রয়েছেন কি করে? স্টেজের ঠিক নিচে দাঁড়ানো ইস্পাত-কঠিন গামবাট দাদা অথবা তাবৎ কাকু মেটিরিয়াল’রা সব ইতিউতি গুলতানি করছিল এতক্ষণ। এই প্রেসার, সুগার, কোলস্টোরেল গোছের টুকিটাকি কুশলপ্রশ্ন। এবারে সেইসব দাদা কাকা পাবলিক, ময়ূরের পেখম মেলা দেখে হ্যালহ্যাল করে উঠবে। মানে এককথায় পূজোগণ্ডা’র দিনে আচমকা দিওয়ালীর রংমশাল দেখে যারপরনাই স্তম্ভিত। স্রেফ চুলকুনি, আর কিচ্ছু নয়! মাপছে এদিকে ষোলো-আনা, আবার চোখে-চোখ হয়ে গেলেই, কাকুর মুখ নিমেষে তেপান্ন ডিগ্রীতে ঘুরে যাচ্ছে দুগগা ঠাকুরের দিকে! তৎক্ষণাৎ ডেকোরেটার ছেলেটা’কে ছদ্ম-ধমক দিয়ে বুদ্ধবাবুর মত স্লোগান, অ্যাই… ডু ইট নাউ! অতএব, বন্যেরা বনে সুন্দর আর সুন্দরীরা পূজোমণ্ডপে! ভোগ-বিতরণের লাইনে পারদের মতন চড়ছে টিআরপি আর সেই সন্ধিক্ষণে গিনিপিগ বড়দা গোছের এক ভদ্রলোকের দিকে নিচুচোখে একটা আলতো সমর্থনের মুচকি দৃষ্টি-বিনিময়। মিনস, ছোট্ট একটু মাজাকি! লোকটার বিএমডবলু আছে, ওই ফোর্থ ফ্লোরের বৌদিটার হাজব্যান্ড।

লজ্জালজ্জা রিনরিনে সুরেলা গলায় এই’যে মশাই, কি দেখছেনটা কি, তখন থেকে হাঁ করে দাঁড়িয়ে, ভোগের কাজে হাত লাগালাম, এবারে একটু ঢাক-টাক বাজাতে বলুন। কিমবা সন্ধ্যেবেলায় ন্যাকামি করে আলিগড়ী পাজামা-ফাজামা চলবে’না কিন্তু মোটেই। একদম ধুতি পরা দেখতে চাই। কোঁচা দেওয়া ধাক্কাপাড়ের ধুতি! দাদা এদিকে বিলকুল কনফিউজড! দুটো শেকলছেঁড়া ডায়লগেই দাদার তরল আবেগ উপচে পড়ছে, রোমাঞ্চে বুক’টা ধকধক করছে, টোল পড়ছে গালে, আর দুঃখ-বেদনা সব হুউশ করে হাপিশ হয়ে যাচ্ছে! নির্জলা উপবাসী দাদা আমাদের। বছরের তিনশো-ষাটটা দিনই তো থাকে উষ্ণ মরুভূমির বুকে। বাকী পাঁচ’টা দিন না’হয় পেল একটু সবুজ মরূদ্যানে লিবার্টির অক্সিজেন! মুখে যতই মাচো ভাব দেখাক না কেন, এ’হেন খতরনাক বাঘিনীকে দেখে থতমত দাদার পায়ের তলায় মৃদু একটা ভূমিকম্প শুরু হয়। রিখটারে কম্পনের মাত্রা এখন সাড়ে-পাঁচ। বাবাই’য়ের মুখটা মনে পড়ে যায়। কোন বাছবিচার না করেই, এই পূজোয় দাদা’টি, বউ – বাবাই সব ছেড়েছুঁড়ে একবার গো-হারান হেরে যেতে চায়। খিচিমিচি সংসারের ছেঁড়া টুকরোটা দু’চ্ছাই করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায় আস্তাকুঁড়ে। স্বেচ্ছাচারী হতে চায়! সহসা কণ্ঠনালী ব্যাথা করে দাদার। চোখে ধেয়ে জল আসে। ধুশশালা! চাকরি, বাড়ি, গাড়ি মেরুদণ্ডহীনতা, অনেক তো হল! দাদা গুনগুন করে ওঠে ভালবাসা ছাড়া আর আছে কি?

বস্তুতান্ত্রিক দুর্গাপূজোয়ে সাজুগুজুটাই আসল। আগেরদিন চুলটা স্ট্রেট রাখলে, পরদিন চিরাচরিত হিসেবমত একটা এলিগেন্ট হাল্কা বং খোঁপা করতে হয়। কপালে লাল বড় করে টিপ, সাথে কম্পালসরি জুঁইয়ের একটা মালা আর আবছা করে লিপস্টিক। রিখটারে কম্পনের মাত্রা তখন সাড়ে ছয়-সাতে পৌঁছে যায় ঝট’সে! যে ম্যাড়মেড়ে মণ্ডপে এতক্ষণ ধরে চলছিল চিকেনরোলে টোম্যাটো-সস না ঢালার উপকারিতা নিয়ে বাদানুবাদ, নেতাদের খিস্তি কিমবা চব্বিশের ইলেকশন রেজাল্ট নিয়ে গুলতানি, সেই মণ্ডপেই মুখে মিটিমিটি হাসি নিয়ে ঢুকতে না ঢুকতেই মণ্ডপ জমে ক্ষীর। প্রেম চুঁইয়ে পড়ে কনুই বেয়ে। মুহূর্তে আলুভাতে পুরুষ দম-আটকে ভুঁড়িটা যথাসম্ভব কমিয়ে, চুলে আঙুল চালিয়ে সচেতন উত্তমকুমারের মত ঘাড় ঘোরায়, অথবা কামুক প্রেম চোপরার মতন বুকের চুলে হাত বুলিয়ে চোখ দিয়ে চালাতে থাকে আদিম তল্লাশি। গেঁটেবাতের পেইনটা নিমেষে নির্বিকার হয়ে যায়। নতমুখে ভাবতে বসে, ঈশ! কেন যে ভোরবেলার জগিং-টা মরতে ছাড়তে গেলুম? কেন যে, আজকে’ই আকাটের মতন ডেনিমটা পরতে গেলুম ধুতি ছেড়ে? মুকুলের মত দাদা মাথা নেড়ে বলে মিস্টেক মিস্টেক।

অষ্টমীর অঞ্জলির সময়ে লাল পাড়ের একটা সাদাকালো শাড়ি, মাটির গয়না আর নিরীহ একটা সুতোর কাজের ব্লাউজে দীর্ঘশ্বাসগুলো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়! হঠাৎ পায়ের কাছে উবু হয়ে বসে, কনুই’য়ের গোঁত্তা দিয়ে একটা সেলফির আবদার! ঈশ কেন’যে আজকে গুচি’র পারফিউমটা মাখলুম না? চপল রিখটার স্কেল পৌঁছয় সাতে! গতরাত্তিরের অত্যাচারের চোঁয়া ঢেঁকুর ওঠে। কেন যে হাভাতের মত খেতে গেলুম চাঁটফাট আর চানাচুরগুলো? আর তার সাথে সোডার মতন ভসভস করে উথলোতে থাকে আবেগ! ঈশ, সামনে দেখা যাচ্ছে মিশুকে খোলা খাদ, কেবল হড়াস করে একবার গিয়ে পড়তে পারলেই হয়। টেকো বার্নিশ করা অবসেসড দাদার মনে হয় আই ডোন্ট কেয়ার! মনে হয় কঠিন বর্ম ভেদ করে লালপাড় বুঝি তার সর্বস্ব দখল করে ফেলেছে। এদিকে মণ্ডপে গিজগিজ করছে এলোমেলো মানুষ। ঝিরঝিরে বাতাস, তবুও দাদার শ্বাস অকারণে সামান্য দ্রুত চলতে থাকে, ডানহাতের বুড়োআঙুল কেঁপেকেঁপে উঠতে থাকে। বঞ্চিত দাদা ঠোঁট চেটে বলতে থাকে, হা ঈশ্বর! কেন’যে তুমি মহিলা সৃষ্টি করলে?

সপ্তমী আর অষ্টমীতে সাজ স্নিগ্ধ থাকলেও, নবমী নিশিতে একদম স্লগ-ওভার। গুন করেছে খুন করেছে টাইপের দুষ্টু হাসি নিয়ে গর্জিয়াস ধোনি ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে মাঠে নামে। শেষবলে ছক্কা মেরে আজ ম্যাচ বের করতে হবে। গ্যালারি থেকে আওয়াজ ওঠে ধোনি ধোনি! স্লিভলেস ব্লাউজ, তাতে আবার একটা পুঁচকি বো। এ’জিনিস ভাইরাল না হয়ে যাবে কোথায়? ও’ টুম্পা সোনা, একটা হামপি দে’না। কুমীর-ডাঙা’তে ডাঙা ছেড়ে এবারে কুমীরের পাল্লায় গিয়ে পড়তে পারলেই হয়! রিখটার স্কেল আর রিখটারে নেই, টেনশনে স্ট্রেট টাকে উঠে গেছে। হাতে, গলায়, কানে কোন আভরণ না থাকলেও, কোমরে জাস্ট একটা রুপোলী চাবির রিং। চোখ পড়তে বাধ্য। দেখবিনা মানে? তোর বাপ দেখবে! হালকা ব্লাশন বুলিয়ে নেওয়া গোলাপি গাল আর ফাঁপানো চুলে হাইলাইটস। অষ্টমীতে যে চোখ ছিল ব্রাউন ন্যুড, নবমীতে সে চোখেই আজ ভরপুর গ্লিটার! ভ্রু’তে চকচকে জেল। ধুনুচি নাচের পর বিগলিত দাদা’র এবারে মনে হয়, অনেক হয়েছে, এবারে একটা হিন্ট দেওয়া দরকার। জাস্ট একটা ক্যাজুয়াল হিন্ট। মিয়াঁ বিবি রাজী তো কেয়া করেগা কাজী? ক্লাসে অলওয়েজ ফার্স্ট বয় ছিলাম বলে স্কুল লাইফ, কলেজ লাইফে ইশক দেখাতে পারিনি। বুড়ো হাড়ের ভেলকি এবারে দেখাতেই হবে! দাদা বুঁদ হয়ে সামনের স্টল থেকে একটা চিজ পপকর্ন কিনে দু’পা এগিয়ে, মনে-মনে রিহার্সাল দেয়। বল কি চাও তুমি? সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে আমার সাথে এক কাপড়ে বেরিয়ে আসতে পারবে? কোত্থেকে নেপথ্যে যেন অনেক’কটা মেয়েলি গলা খিকখিক করে আচমকা একসাথে হেসে ওঠে। মনের ভুল! দাদা’র মনে হয়, এবার’ও কি বিচার পাবেনা বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে নেওয়া নিহত গোলাপ? মন কি আর সব সত্য’কে মানতে চায়?

রিখটার স্কেল’টা আজ অবসন্ন হয়ে আবহাওয়া বিভাগের চাকরি’টা ছেড়ে দিয়েছে। কারণ, কল্পনার প্রাসাদে শেষ কুড়ি বলে এখন দরকার একশো কুড়ি! প্রতি বলে চাই ছক্কা। নবমী নিশি মোটামুটি গিয়েছে নিদ্রাবিহীন। নখ সব মুড়িয়ে খেয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন চামড়া’য় দাঁত পড়ছে। দশমীতে দাদা আজ সম্পূর্ণ নিরাশ্রয়। চোখের সামনে এক অন্য জগত। মনে মনে উইল-ফুইল করা হয়ে গেছে। সম্পত্তির ভাগ বাঁটোয়ারা সমস্ত কমপ্লিট। জাস্ট উকিলের কাছে গিয়ে লেখাপড়া’টা একদিন করে নিলেই হবে।

তবে ফাইনাল যা হওয়ার ওই সিঁদুরখেলার মোক্ষম সময়টাতেই হয়ে যায়। কি অনাবিল হাসি! যেন রিনা ব্রাউন। কি সাজানো দাঁতের পাটি! যেন এখুনি আলিয়া ভট্ট বলবে হোয়াট ঝুমকা? এদিকে লাল শাড়ি, ওদিকে সিঁদুর গালে লেপটে লাল গাল, লাল চিবুক, লাল নাক! অন্যদিকে সেই লাল নাকে একটা সোনার নোলক। ঈশ, ওই নাকটায় যদি একবার নাক ঘষা যেত। আবার গলায় একটা চোকার; দাদার গলা চোক করে যায়। মনে হয় বাস ট্রাম ফুটপাথ সব আজ লালে লাল। এই রে! বামফ্রন্ট বুঝি ফিরে এল আবার। তাহলে তো ফের সেনসেক্স নেমে যাবে। বিসর্জনের আগে বিকেলে আবার চোখ চেঞ্জ। এবারে স্মোকি, আর খোঁপায় একটা অফবিট নাম-না-জানা ফুল। মা দুর্গার পা ছুঁয়ে, গলার শির ফুলিয়ে আসচে বছর আবার হবে বলে চিল্লামিল্লি আর দাঁড়িয়ে থাকা লরির সামনে নিতম্ব দুলিয়ে ভাসান ড্যান্স। কি ফ্রেন্ডলি মাইরি। দাদা এবারে আর পারে না। পারা সম্ভব নাকি? এদিকে পরামর্শ নেওয়ার মতও কেউ নেই। এমন সময় একটা ভিজেভাব দাদাকে গ্রাস করে। লরির সামনে আওয়াজ ওঠে, বলো বলো দুগগা মাই কি! দুর্গাঠাকুর এখনও ভাসান হয়নি, কিন্তু উসকো খুসকো বেপরোয়া দাদা কোলাকুলি না করে আর থাকতে চায় না। শ্বাসবায়ুতে শ্বাসবায়ু মেশাতে গিয়েই, সুরেলা রিনরিনে গলা এবারে ছিটকে সরে যায়। মাথা নেড়ে দৃঢ় গলায় বলে কি আস্পদ্দা!  হাউ ডেয়ার ইয়উ? ফাকিং… রিল্যাক্স… টেক ইট ইজি। দুগগা ঠাকুরকে নিয়ে লরি নিজের মত এগিয়ে যায়। মাথা ভোঁভোঁ করে, দাদা একা একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গ নাবিকের মত। পা-দুটো টেনে নেয় চোরাবালির মতন কি যেন একটা!

পয়সা, পেশি, হাইট না বাস্তববুদ্ধি? না’কি চার্মিং হতে হয়? সেন্স-অফ-হিউমর? কোন’টা যে ছাতারমাথা ভালবাসে মেয়েরা? ক্লাসের ফার্স্টবয়’ও ফেল মারে। মেনে নিতে শিখতে হয়। সুরেলা টেক ইট ইজি’টা মাথার মধ্যে শুলের মতন বেঁধে! মন অসহায়, অবুঝ। তবু মুখ তেতো করে, নিঝুম ওয়াশরুমে ঢুকে একা গাইতে হয়, সবাই তো সুখী হতে চায়, তবু কেউ সুখী হয় কেউ হয়না। একে’একে জানলা কপাট সব বন্ধ করে পাশবালিশ জড়িয়ে ঘুমোতে যাওয়ার সময় বৌদি ঘরে ফিরে একদম অনুত্তেজিত স্বরে বলে কি’গো? খরচাপাতি করবেনা? পাঁচদিন ধরে কেবল হাঁ করে গিললে হবে? একটা খরচা আছে তো! দাদা পাশ ফিরে ছলছলে চোখে বলে অ্যাই আমি খুব বোকা, তাই না? ওদিক থেকে বৌদি ফিক করে হেসে বলে ওরে আমার একতরফা মাল, বোকা বললে তো তোমাকে আদ্ধেকটাই বলা হয়..

তারপর? তারপর আবার কি? ভাঙাচোরা পাঁচ’টা দিনের পর একাদশী থেকে বিলকুল সব আগের মতন। মানে, ব্যাক-টু স্কোয়ার ওয়ান!

2 responses to “দেখলে হবে? খরচা আছে…”

  1. অনেকদিন পরে একটা জম্পেশ লেখা। চালাও পানসি…….

    Like

  2. Nilanjan Dasgupta Avatar
    Nilanjan Dasgupta

    বহু,বহু যুগ বাদে মনে হল ইডেনের ছোট স্কোর বোর্ডের নিচে বসে দ্রাবিড় আর লক্ষ্যণের ইনিংস দেখলাম বিট নুন দেওয়া শশায় কামড় দিতে,দিতে। দারুণ হয়েছে কাকা – Solid comeback. 😊🙏🏽❤️

    Like

Leave a comment