“কি মুশকিল! ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল”। ছিলো সুইসাইড, আর চকিতে এখন ভোল পালটে বেআইনি ড্রাগের কেচ্ছা! মুহুর্মুহু খাড়া হচ্ছে কেলেঙ্কারিয়াস গপ্পো। এদিকে আত্মহত্যার পরপরই তৎকালীন তদন্তখানা শুরু হয়েছিল বরদাচরণকে দিয়ে। তারপরে একে একে গোগোল, অর্জুন, মিতিনমাসী, ব্যোমকেশ, কিরীটী, কর্নেল ঘুরে কেস শেষ অবধি এসেছিল ফেলুদার হাতে। কিন্তু যে হারে কেসটা সিম্পল হারমোনিক মোশনে দুলছে, ডাঁয়ে থেকে বাঁয়ে, ওপর থেকে নিচে, বেরিয়ে আসছে তাবড় তাবড় নাম, ফেলুদা যদ্দুর মনে হচ্ছে এবারে বোধহয় কাকাবাবুকে ফোনে জানিয়ে দেবে। এসব ড্রাগটাগের মামলা, মগজাস্ত্রের তেমন প্রয়োজন নেই কিনা!
তাছাড়া সবই এখন নিউজ চ্যানেলগুলোর আওতায়! হাই কোর্ট বলুন হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বলুন, সুপ্রিম কোর্ট! বিচারের বাণী সরবে সজোরে কাঁদে! তাছাড়া গাঁজা চরসের ব্যাপারগুলোও তো ফেলু মিত্তিরের খতিয়ে জানা নেই তেমন। সিধুজ্যাঠাও সেদিন মুখের ওপর বলে দিল, পঞ্জিকা জিজ্ঞেস করো ফেলু, গড়গড় করে বলে দোবো। গঞ্জিকা তো জানিনা ভাই তেমন! তার পরে ফিক করে একচিলতে হাসি! উপরন্তু দেখা যাচ্ছে, বিষয়টা ঘোরতর সরকারি ক্ষমতার ব্যাপার। এদিকে পঞ্জিকা আর গঞ্জিকার মিল শুনে জটায়ু তো বেজায় খুশী। মাথা নেড়ে বলেলেন, এ মিল তো মনের মতন মিল মশাই, আপনার সিধুজ্যাঠাও কি এথেনিয়ামের বৈকুণ্ঠ মল্লিক থেকে ইন্সপিরেশন নিলেন নাকি?
তবে ফেলুদার দ্বারা এই কেস সল্ভ হবে বলে মনে হচ্ছেনা! তাছাড়া ঘড়ি ধরে ন’টার সময়ে অ্যাংকরটা অ্যাত্ত ভয়ানক চিল্লোয়! ওই অ্যাংকরটাকে সত্যিকারের ভয় পেয়েছে ফেলু মিত্তির! জীবনে প্রথমবার! কি দাপট! মগনলালকে শায়েস্তা করলেও, এই অ্যাংকরটা তো মগনলালের বড়দা! তাই নির্ঘাত কাকাবাবুকে এবার হাল ছেড়ে বলবে, মন্ত্রীমহলে আপনার তো মশাই অ্যাত্ত চেনাজানা, কেসটা না হয় এবারে আপনিই দেখুন। জটায়ুর আবার এতে ঘোর আপত্তি। গড়পাড়ের থেকে সকালের ভিডিও কলিং’এ সজোরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, ধ্যার মশায়… কাকাবাবু কি আর এ বয়সে পারবে হাঁটুর বয়সী নায়িকা ধরতে? তাও করাচীর গ্লোবাল ক্রিমিনাল হলে না হয় বুঝতাম। এদের দরকার মশাই স্রেফ দুটো করে রামগাঁট্টা। সবকটা ভবানন্দের চ্যালা! ওই গাঁট্টা খেলেই, সুড়সুড় করে ব্যাটারা সব স্বীকার করে নেবে! আপনি বরং একবার বাঁটুল দি গ্রেট’কে কেসটা রেফার করে দেখুন! নায়ক নায়িকা সবকটাকে পেছনে দুটো করে ল্যাম্পপোস্ট গুঁজে দিলেই দেখবেন সবকটা মেচিবেড়ালের মতন ঠাণ্ডা! আর নিউজ চ্যানেলে নিয়ে আসুন পাগলা দাশুকে! বেবাক চেঁচিয়ে মেচিয়ে এমন গোল বাঁধিয়ে ছাড়বে রাত নটায়, দেখবেন দুর্মুখ অ্যাংকরটা খেই হারিয়ে সুড়সুড়িয়ে ফার্ম বিলের রিপোর্ট দিচ্ছে!
ভেবে দেখার মতন ব্যাপার কিন্তু! কোথায়, একটাও না কেশে, মন্ত্রীমশাই একটা যুগান্তকারী বিল আনল এগ্রিকালচারের ওপর! বিরোধীরা ওয়েলে নেমে বাওয়ালি করলেও, ধান, গম, মুসুরি, মুগ, বাঁধাকপির মাঝে ঝকঝকিয়ে খিলেগা কমল কা ফুল! তা নয়, কোন বহেনজী কোন রাত্তিরে গাঁজা চেয়েছে, সাঁটে লিখেছে – মাল রাখা হ্যাঁয় কেয়া তেরা পাস? সেই নিয়ে অ্যাংকর বাবাজী তারস্বরে গাইছে, নব নবীনের গাহিয়া গান, সজীব করিব মহাশ্মশান! রেগুলার শকুনমার্কা সংবাদকর্মীগুলো হাড্ডাহাড্ডি রকম গা ঘামিয়ে বের করছে, আজ সন্ধ্যেবেলা কি এমন নয়া ডায়লগখানা ঝেড়ে, নেশনের ঘুম কেড়ে নোবো? মোদ্দাকথায় এ এক নতুন শকথেরাপি।
ফার্ম বিল নিয়ে নাড়াচাড়া না করুন! চীন আছে, আইপিএল আছে! সেগুলো নিয়ে অ্যাটলিস্ট লোপালুপি করলেই তো হয়। টকমিষ্টি টাইম পাস হবে! আর কিচ্ছু না পেলে হাতের পাঁচ করোনাটা তো আছেই। ছ্যাঃ ছ্যাঃ! ভাইরাসটা এখন রুখু সুখু মুখে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ‘মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে’ গাইছে। পাবলিককে এতো ঝামেলা দিলাম, দেশের কান্নিক মারা ইকোনমিটাকে কিনা এক্কেবারে গোঁত্তা মেরে ঝুলিয়ে দিলাম, তাও তোদের নিউজ চ্যানেলে আধ মিনিটের বেশী কেউ আমার নাম নিসনা আজকাল? তোদের কেএল রাহুল তো একটা মাত্তর সেঞ্চুরি মেরেছে, আর আমি যে ষাট লাখ ইন্ডিয়ানকে দেওয়াল ধরিয়ে দিয়েছি, তার বেলা?
অনেক শুনে জটায়ু আবার বললেন, যা শুনচি, এটা ওই গোলাপি গেঞ্জি বাঁটুলেরই কেস মশাই! আপনি বেকার ফাঁসবেননা, ফেলুবাবু! ওই যে কথায় বলেনা, কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম? তোমার কর্ম তুমি করো মা, লোকে বলে করি আমি! আর বলে দিন, ইকনমিটাও বরং একসাথে বাঁটুলকেই দিক সামলাতে! ‘ইরক’ করে পিছলে যাচ্ছে রোজ রোজ, ‘গ্লুবহ’ করে নাকানিচোবানি খাচ্ছে, এ সামলানো কি আর চাট্টিখানি কথা?
🤓
Leave a reply to procyonmukherjee Cancel reply