চোঁ 🤓 ৩

চোঁ 😀 সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

কানের পাশে মাস্কের ফিতেটা লাগাতে লাগাতে রুকু চোখ কুঁচকে বলেছিল, ভাইরাসটা তো এসেছে অন্য একটা দেশ থেকে। দিল্লীর শয়তান সিং বা ডাকু গণ্ডারিয়া তো আর আনেনি! ফেলুদা মোলায়েম গলায় পাল্টা জিজ্ঞেস করেছিল, তুমি ঠিক কোন দেশের কথা বলছ বলোতো, ক্যাপ্টেন স্পার্ক? গম্ভীর গলায় তার জবাব এসেছিল, চায়না। ওদের এমনি মারা যাবেনা! হারপুন চাই, র‍্যাক্সিট বলেছে! লালমোহনবাবু একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বলেছিলেন, ছ্যাঃ ছ্যাঃ… এ ছেলে আপনার গত পাঁচ মাসে ক্ষিতীশ চাকলাদার আর অক্রূর নন্দীর চ্যানেলফ্যানেলগুলো সব গুলে খেয়েছে মশাই! অন্যদিকে আবার চাটুজ্জেদের রোয়াকে বসে টেনিদা হাত পা নেড়ে ক্যাবলা, প্যালা আর হাবুল সেনকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল, মেলা ফ্যাচফ্যাচ করিসনি তো! তোরা বুঝবিনা, কুট্টিমামা নিজের মুখে বলেছে, এর পেছনে হাত রয়েছে এক কুখ্যাত চৈনিক দস্যুর! নাম ঘচাং ফুঁ! দ্যাখ না, আমাদের সব্বাইকে কেমন ঘচাং করে কেটে, ফুঁ করে উড়িয়ে দিচ্ছে!

ভাইরাসটা এদিকে ইকনমির মাথায় চড়ে চু-কিত-কিত খেলছে! আর দুর্বোধ্য চৈনিক ভাষায় বিড়বিড় করে বলছে, হেড আই উইন, টেল ইয়উ লুজ! ওদিকে শুনতে পাওয়া গেছে, ভেন্টিলেটরে পদার্পণের আগে শশীবাবু শেষ শব্দ নাকি আউরেছিলেন – ভগবান! লালমোহনবাবু যদিও বলছেন আরে, ঘর থেকে বেরোয়নি লোকটা পাঁচ মাস যাবত। হল কেমন করে? হাইলি সাসপিশাস মশাই, আর চারমিনারের একটা রিং ছেড়ে ফেলুদার মতন অ্যা-পলিটিকাল মানুষও শেষমেশ আলপটকা কমেন্ট করে বসছে, দ্যাখো কাণ্ড! শশীবাবু না হয় মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ! যা বলেছেন, তাতে আপত্তি করা যাবেনা! কিন্তু দ্যাখা যাচ্ছে দেশের তাবড় মিনিস্টারও সহজ বয়ান দিয়ে দিচ্ছেন একই পথে? ষ্টেটগুলোকে নাকি জিএসটি’র শেয়ারের কোশ্চেনে মন্ত্রী বলেছেন, অ্যাক্ট অফ গড।

হায়রে! এদিকে পটলডাঙাও লকডাউনে! চাচার দোকানের ফাউল কাটলেট বা কচৌরি গলির হনুমান হালুইকরের রাবড়ির দোকানও সান্নাটা বন্ধ হয়ে রয়েছে পাঁচ মাসের ওপর! পেস্তার সরবত খাবে কি? বাড়ীর ফরাসে এলিয়ে বসে অর্জুনের তেরা নাম্বার বাক্স’র খেল দেখতে দেখতে মগনলালের মতন সেয়ানাও বারবার নজর করছে ঈশান কোনের ঘুলঘুলির দিকে! আবার কোনও বেওকুফ পিস্তলফিস্তল তাক করে বসে নেই তো তার দিকে? অথবা সরবতে কেউ ‘ভিষ’ মিশিয়ে দেয়নি তো তার অগোচরে? খাচ্ছিল তাঁতি তাঁত বুনে আর এখন এঁড়ে ভাইরাসটার পিছনে ধাওয়া করতে করতে হাঁপিয়ে তাঁতিটা কেন্দ্রের গলাতেই বলছে, ভগবানটা ভারী দুষ্টু! চৈনিক ভাইরাসের রামধাক্কায় আমাদের সোনার ট্রিলিয়ন ডলারের ইকনমিটাকে এক্কেবারে উজাড় করে দিয়ে গেলে গা।

কেন্দ্র রেগেমেগে বলছে, অ্যাই তোমরা এতো বেকার খাঁইখাঁই করো কেন বলোতো? একটু শান্তি দিবিনা? দ্যাখ না বাপু বাড়ী বসে নিউজ চ্যানেলগুলো! গাঁজার গপ্পো, চরসের গপ্পো, ফিল্মস্টারের বাড়ী তুবড়ে দেওয়ার গপ্পো! এই তো মে মাসেই হাতখুলে দিলাম তোদের! গুনেগেঁথে একুশ লাখ কোটি টাকা! আর এখন আবার এরই মধ্যে তেড়েমেড়ে জিএসটির লাফড়া চালু? ধুর… কে কবে ইকনমিক্স অনার্স নিয়ে সেকেন্ডক্লাসে পাস করছিল, সেও ব্যাটা এখন গলার শির ফুলিয়ে বলছে, কোষাগারে টাকা নেই বললে চলবেনা স্যার! দরকার হলে ধার্যকর্জ করতে হবে! প্রয়োজনে নোট ছাপতে হবে! জিএসটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান স্বয়ং জেটলি সাহেব কবুল করে গেছিলেন!

জটায়ু উদগ্রীব গলায় ফেলুদার দিকে চেয়ে নাক থেকে মাস্কটা সরিয়ে জানতে চাইলেন, কি মনে হয় আপনার ফেলুবাবু? তাহলে কি নতুন করে একটা হালকা সেস চাপাবে নাকি? বলছে টাকাপয়সার বেদম টানাটানি চলছে নাকি! ফেলুদা খবরের কাগজের থেকে মুখটা না সরিয়েই বলল, করলে ভুল করবে। ঐতিহাসিক ভুল! এই বাজারে পাবলিকের ঘাড়ে নতুন করে সেসফেস চাপালে, পাবলিক বেজায় বিগড়ে যেতে পারে! পেটে ভাত জুটছেনা… তার ওপরে সেস? বরং জিএসটির কমিটমেন্ট রাখতে দেনাটাই এখন সেফ হবে! তাছাড়া এক্ষেত্রে মগজাস্ত্র চলবে না লালমোহনবাবু, এবারে গোটা দেশের দরকার কিন্তু সাহসাস্ত্র! দুর্ধর্ষ দুষমনকে মারতে সাহস চাই, দুমদাম ভয় পেয়ে গেলে ইকনমি চলে?

ওদিকে হাবুলও ব্যাটা একটা ন্যাকা ন্যাকা গলায় টেনিদাকে জিজ্ঞাসা করছে, অ টেনিদা, জিগাও না একবার তোমার কুট্টিমামারে! ভ্যাকসিনখান আইব কবে? আনবো কেডা? কিচ্ছু না পেয়ে টেনিদা নিজের মাস্কের দড়িখানাই চিবুচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরে! এবারে বিরক্ত হয়ে বলল, ধ্যাত্তেরি, এইটার শুধু ভ্যাকসিন আর ভ্যাকসিন! পিলে তো জানি প্যালার আছে রে! তোর অ্যাত্ত ভয়? জেনে রাখ হাবলা, ভ্যাকসিন এলেও কি আর না এলেও কি? কুট্টিমামার সাহসী ছু মন্তরে চাচার দোকানটা খুলে যাচ্ছে আসচে হপ্তায়! বিলকুল ভয় পাসনা রে হাবুল! ভজহরি মুখুজ্জে ময়দানের গোরা পেটানো লোক, ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছি কত্ত রেফারির! সামান্য একটা ভাইরাসের ভয়ে পিছিয়ে যাবো? দুহাজার চব্বিশে পাঁচ ট্রিলিয়ন তো হাতের নস্যি রে! সেই শুনে ক্যাবলা মাস্কটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল, এই তো আমাদের লিডারের মতন কথা! আর তক্ষুনি তিড়িক করে লাফিয়ে উঠে প্যালা চেঁচিয়ে বলে, ডি লা গ্র্যান্ডি মেফিস্টোফিলিস… অন্যদিকে ফেলুদা, টেনিদা, জটায়ু, তোপসে, ক্যাবলা আর আরও সক্কলে সজোরে গলা মিলিয়ে তখন বলছে, ইয়াক ইয়াক!

🤓

3 responses to “চোঁ 🤓 ৩”

  1. বেড়ে হয়েছে ।

    Like

  2. চালাও পানসি !

    Like

  3. কল্যাণ শঙ্কর দত্ত Avatar
    কল্যাণ শঙ্কর দত্ত

    যথারীতি … দারুণ লিখেছো।

    Like

Leave a reply to Kausik Sengupta Cancel reply