যে ঘোড়েল রাজনীতিবিদটা এমন একটা টাইমে ফালতু রাজনীতি করবেনা বলে বাতেলা দিয়েছিল, সে আজকে বলছে, যা করছি, বেশ করছি। আরও করব। যে চালিয়াত বৈজ্ঞানিকটা সোনামুখ করে বলেছিল, আমি বুক দিয়ে তোদের আগলে রাখব, সে লোকটা আজ সুপার অসহিষ্ণু। ঠোঁট চেটে বলছে, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। যে বলিষ্ঠ মনিবটা ছাতি ফুলিয়ে হুজুগে গলায় বলেছিল, ইয়া হু, কুছ পরোয়া নেহি। সে আজ আড়ষ্ট গলায় বলছে, সাইডে যা। দাঁড়া বাবা, এক্ষুনি অত হড়বড় করিস না। আর ভিড়ে ভিড়াক্কার বস্তির অবসন্ন পাবলিক শিথিল গলায় তাদের মন কি বাত বলছে। কপাল ঠুকে বলছে, রেশনটেশন আমাদের এখুনি কিছু চাইনা। একটা শুধু ব্রেকিং নিউজ চাই। হেঁচকি তুলে বলছে, কাজে যাবো, জাস্ট পেটে লাথ না মেরে, যেটুকু কথা দিয়েছিলে, সেটুকুন তো অ্যাটলিস্ট পালন করো। কিছু না হলে আজ বাদে কাল তো দুটো রুটি কিনে খেতে পারব। জ্ঞান দিয়োনা গুরুদেব, আমরাও এখন তোমাদের মতন সত্য মিথ্যে জানা ইন্টেলেকচুয়াল। বার্থডে’তে কেক কাটি, জিও ফোনে পাঙ্গা নিয়ে ফেসবুক আর ওয়াটসঅ্যাপ করি। তোমাদের দেওয়া গ্যারান্টিতে আমরা আজ নিরস্ত্র। চুরি ছিনতাই করা তো টোটালি ভুলেই গেছি। আরে বাবা! সোজাসাপটা বলি, আহ্লাদ করে তো আর রেডজোনে জন্ম নেইনি। পেচ্ছাপ করতেই যদি আধমাইল হেঁটে দশমিনিট লাইন লাগাতে হয়, তাইলে দেওয়াল খানা কি দোষ করলো রে বাবা? সেই দেওয়ালেই আবার যদি বজ্রংবলির বুকচেরা টাইল লাগিয়ে দিবি! বলি, হিসিটুকুনও কি কেড়ে নিবি তোরা? বিঁড়ি সিগ্রেট চুলোয় যাক, মদের বোতল চুলোয় যাক। কেমোথেরাপি চুলোয় যাক, সেনাবাহিনী চুলোয় যাক। ক্লাবের চাঁদা চুলোয় যাক। এমনটা আস্পদ্দা চলতে দিলে তো, ভাত নিলাম হবে খুল্লামখুল্লা, আইপিএল’এর কায়দায়। আর সব ভাত তখন কিনে নেবে মুম্বই ইন্ডিয়ানস। যেমন সকাল বিকেল কিনছে রোহিত শর্মাকে। ধুত! টলতে টলতে মড়াকান্না আর কদ্দিন হবে? পোঙ্গাপাকা আঁতেলদের মৌনমিছিল কদ্দিন হবে? গেছোবাবাদের গরম ষ্টেটমেন্টের খেলা কদ্দিন হবে? বেশী বাড়াবাড়ি করোনা, তদ্দিনে প্রতি’কটা অস্ত্রহীন রেডজোনও কিন্তু সেজে উঠবে তিয়েন-আনমিন স্কোয়ারের মতন। আর এই ফাঁকে একটা ডরপোক ন্যাংটো বাচ্চা, খুপরি ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে সবুজ প্যাস্টেল দিয়ে অ্যামোনিয়া মাখা বস্তির দেওয়াল সবুজ রঙ করে দেবে। আর সাথে জুটবে ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া আরও পাঁচটা দুবলা মানুষ! সেদিন উদাস প্রশাসন হামলে এসে বলবে, অসহায় ভারতবাসী আমার ভাই… যা যা পালা। আর ফাঁপরে ফেলিসনা। ছুটি। কাল থেকে তোরা গ্রিন! অন্ধকারে গ্রিন দেওয়ালটা ফুঁড়ে বউটা বেরুচ্ছে কাজে। বাচ্চা হামা দিচ্ছে মেঝেতে। আর শাশুড়ি সেই পুরনো সুরে শুধোচ্ছে, অ’বৌ, তা এতো রাত্তিরে চললি কোথায়? আঁচলটা মুখে চেপে বৌ অস্ফুটে বলে, একটা সত্যি যমের বাড়ি। যাবে নাকি গো আমার সাথে? মানুষটা স্থিরদৃষ্টিতে তখনও তাকিয়ে আছে কড়িকাঠের দিকে। মাথা না ঘোরাবার প্রতিজ্ঞা নিয়েছে সে। তবে সে অন্য আরেক গল্প।
Leave a reply to কৌশিক সেনগুপ্ত Cancel reply