তুলকালাম কাণ্ড! দুটো যাচ্ছেতাই লোক লকডাউন ভেঙেছিল। একটা রোগাপানা, লম্বা। অন্যটা একটু খাটো। মার্কামারা গেঁয়ো চেহারা! আলুথালু কামিজ। ময়লা খেটো ধুতি! দুটোরই কোমরে একখানা মোটা নারকোল দড়ি বেঁধে দরবারে হেঁচড়ে নিয়ে আসছে পেয়াদা। ওদের এবার বেদম শাস্তি হবে। প্রথমে থুতু পরীক্ষা হবে। তাপ্পরে বাটামের বাড়ি খাবে দুটোই। চাবকে পিঠের চামড়া গুটিয়ে, শেষে কোয়ার্যানটাইন চোদ্দ দিনের। বেজায় ভয় পেয়েছে দুটোই। বেচারি গাঁয়ের লোক। শহরে গিয়েছিল এইবেলা দুটো পয়সা কামাতে। রাতের অন্ধকারে ফাঁকি দিয়ে বাড়ী ফিরতে গিয়ে এই বেইজ্জত হাল। আর মানতে হবে, ঠিক সময়ে দুটোকে পাকড়েছে রাজার পেয়াদা। তবে আশা একটাই, দুটোই নিজ্যস হিঁদু বংশের ছেলে, গোমাংস মুখে ছোঁয়নি কোনদিন। রক্তচক্ষু রাজা তর্জনী উঁচিয়ে বলে, ঘুরতে বেড়াইছিলি ক্যানে? আইন জানিস না? রোগাটা কেন্নোর মতন গুটিয়ে গেছে!। তুতলে গেছে। চাদ্দিকে দেখছে ইতিউতি। খাটোটার এদিকে বেশ প্রতাপ। সপ্রতিভ গলায় বলে, জানবনা কেন? খুব জানি রাজামশাই। তবে আমাদের জুতাজোড়া চুরি গ্যাসে কিনা! আর সাথে আমার ঢোলটাও। নইলে হাতে-হাতে তালি দিয়া কখন আমরা পৌঁছে যেতাম আমলকী আর হত্তুকী। হঠাৎ কিছুর মধ্যে কিছু না। আলাভোলা রোগাটা একটা বেপরোয়া গান জুড়ল। কি সাহস! আবার মাঝেমাঝে খাটোটাও তাতে জুড়ে দিচ্ছে বদখৎ সুর! অবিশ্বাস্য সুন্দর গলা কিন্তু রোগাটার! কি সরল! রাজাটা আঙুলে তাল দিতে গিয়েও পারল না। শরিলটা ব্রেক মারছে কেমন! আঙুল ফাঙ্গুল কেমন আঠার মতন আটকে যাচ্ছে! গ্রাম্ভারি গৃহমন্ত্রীটাও কেমন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে! এমনিতেই মোটা মানুষ! আটকে গেছে তেরছা কেদারায়! তবে মন চলছে! আর মনে ভাবছে, কি কাণ্ড? এই হোলসেল অনিশ্চিত বাজারে গান? আমজনতার সাহস আছে বলতে হবে! একে তো তোরা লকডাউন ভেঙ্গেছিস, তায় আবার ফুর্তির গান গাইছিস? নাহ… এ’দুটোকে খোদ কোটালকে দিয়ে খুব করে ধোলাই দিতে হবে। নইলে দেখাদেখি বাকী পাবলিক সব বাহাদুরি করে বেড়িয়ে পড়বে লকডাউনের তোয়াক্কা না করে! রোগার গানটা চলছে গানের মতন! দরবার গমগম করছে! নেচে নেচে গাইছে হাসির গান। প্রাণখোলা নাচ। নট নড়নচড়ন রাজামশাই ইদিকে ভাবছে অন্য কথা। এইবেলা লকডাউনটা চট তুলে নেওয়া দরকার। গাঁয়ের পাবলিক আস্পর্ধা দেখিয়ে একবার যখন বেলেল্লাপনা শুরু করেছে, তখন হুলুস্থুল হওয়ার আগে, প্রশ্রয়ের সুখ্যাতিটুকুন তো কুড়িয়ে নেই।
Leave a reply to Baishali Mazumder Cancel reply