Lockdown Diaries # 8

অতশত জানিনা ভাই। তবে ভ্যারাইটিহীন দমবন্ধ জীবনের অভ্যেসগুলো কিন্তু থিতু হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। ভাবলেশহীন ফাঁপা মগজে একটা অদ্ভুত ভাললাগার ফিলিং জাগছে। এক, রাত্তির জেগে ড্যাবড্যাব করে একটার পর একটা জোলো সিনেমা দেখার লাইসেন্স। দুই, সারাটা সকাল আদুর গায়ে নিরন্তর কাপের পর কাপ চা পেদিয়ে, ঘিনঘিনে ওয়াটসঅ্যাপের দিকে একদৃষ্টে জড় হয়ে চেয়ে, থ্যাবড়া বসে থাকা। তিন, দুপুরে ভরপেট্টা ভাতফাত খেয়ে পাশবালিশটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দেদার ঘুম। চার, সন্ধ্যের দিকে হালকা বুকজ্বালা আর দু – খাপটি জেলুসিল মেরে উফফ! কি আরাম, কি আরাম!

এদিকে জামার বোতামটা আলগোছে কিভাবে বোতামঘরে ঢোকাতে হয়, সেই কায়দাটা বিলকুল ভুলে মেরে দিয়েছে মনুষ্যজাতি। কি আর বলবো? প্র্যাকটিসের অভাব! সভ্যতার মৌলিক নীতি না মেনে, সেন্টফেন্ট লাস্ট বোধহয় বডিতে লাগানো হয়েছিল গেলো মাসের মাঝামাঝি। ধুর পাগল, ঘেন্না পাসনা। চটচটে বগলটা দিয়ে গন্ধ বেরুচ্ছে, তো কোন মহাভারতটা অশুদ্ধ হচ্ছে শুনি? মিটারখানেক দূরে যা, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিংটা মেন্টেন কর, দেখবি গন্ধ – ফন্ধ সব গায়েব হয়ে গেছে! আরে, সাবানটাবান অত না মাখলেও চলে। ছেলেবেলায় জানিস, একটা মলয়-চন্দন সাবানে অনায়াসে চলে যেত দু-মাস! আর এখন তো কেবল হাতের চেটোটুকুন পরিচ্ছন্ন রাখার শর্ত দিয়েছে। বগলের কথা তো ‘হু’ থেকে কিচ্ছু জানায়নি।

মাঝখান থেকে গুড ফ্রাইডে’র ছুটিটা মারা গেলো। আধশোয়া হয়ে সরকারি কর্মচারীরা বলাবলি করেছেন, দাঁড়া আপিসটা চালু করলেই একদিন টুক করে একটা সি – এল মেরে দেখতে হবে। ছুটি নিতে ঠিক কেমন লাগে? আর তদ্দিনে তো আকাশ – ফাকাশ ক্লিয়ার হয়ে, পাঁচমাথার মোড়খানা পেরুলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা।

অন্যদিকে, স্লো মোশনে ঘর ঝাড়পোঁছ করতে করতে গিন্নির গেঁটেবাত আদ্ধেক হাওয়া। শুনছো, আমার না এক হপ্তায় দেড়কিলো মতন কমে গেছে। কি দারুণ না? চলোনা আজ তুমি ওই সিল্কের পাঞ্জাবীটা পরো, আর আমি নতুন ঢাকাইটা। চলো, একটু বাইরের ঘরটার থেকে ঘুরে আসি বিকেলবেলা। অনেকদিন তো তুমি ওদিকটা যাওইনি।

মোট কথা, শিথিল গ্রহখানা ভয়ঙ্কর আস্তে ঘুরছে। থতমত খেয়ে গেছে কিনা! পুঁজিবাদ, মার্ক্সবাদ, সমতা, অসমতা সব একাকার হয়ে এক পত্রিকা জানাচ্ছে, আগেই বলেছিলাম না, আমরা ভগবান ছাড়া কাউকে ভয় পাইনা। আজ পাচ্ছি। অন্যদিকে রজনী সেন রোডে, পাঞ্জাবীটা গলিয়ে নিয়ে ফেলুদা বলল, একটা খটকা লাগছে রে তোপসে। ভাইরাসটা বিদায়ের পর, মানুষকে ঘর থেকে বের করতে আবার থালাবাটি না বাজাতে হয় বিকেল পাঁচটায়!

One response to “Lockdown Diaries # 8”

  1. কৌশিক সেনগুপ্ত Avatar
    কৌশিক সেনগুপ্ত

    অসাধারণ অনির্বান। বিশেষ করে সেজেগুজে ফাঁকা বৈঠকখানায় গিন্নির সাথে ঘুরতে যাওয়া। দূর্দান্ত তোমার কল্পনা শক্তি।

    Liked by 1 person

Leave a comment