গা বাঁচিয়ে চল রে ভাই, গা বাঁচিয়ে চল। বিগবস যখন নিজে থেকে বলেছে, যা ঢুকে, থাকবি সুখে, বেরোবি আবার পুজোর মুখে! তখন খামোখা পায়চারি করতে বেরিয়ে নিখরচায় খোঁচরের বাটাম খাওয়ার কোন মানে হয়? প্রথম দিকটা হরদম কেলাচ্ছিলো। প্রতিরোধবিহীন আরশোলার মতন। দ্যাখ – মার পলিসি। ঝ্যাঁটার এলোপাথাড়ি এক বাড়িতে দুমড়ে দিয়ে, তাপ্পরে শুঁড়টা আস্তে করে ধরে স্ট্রেট নর্দমায়। কিছুতেই ছাড় নেই! কোশ্চেন – ফোসচেন ছাড়াই চুলের ঝুঁটিটা ধরে বেধড়ক প্যাঁদানি।
ছেলেটা এদিকে হাঁপাচ্ছে আর বলছে, আর মারবেননা স্যার, এবার তো বোনলেস হয়ে যাবো! মেজদির মেয়েটার জন্য ল্যাক্টোজেন কিনতে বেরিয়েছি স্যার, হুইস্কি না। কিন্তু কে শোনে কার কথা? মার শালাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে। অ্যাই শুয়ার, এক্ষুনি দুটো খকখকে কাশি দিলি শুনলাম, এখন মেজদির বাচ্চার দোহাই দিচ্ছিস? যে চিহ্নেই ছাপ মারোনা কেন তুমি, ধোলাই তোমায় সেদিন খেতেই হবে!
তবে দিন বদলে গেছে। জাতির এই দুর্দিনে, বেস্পতি সাততাড়াতাড়ি ঢুকে গেছে কিনা মকর রাশিতে! আর তাই ধীরে ধীরে আচ্ছে দিন এসে গেছে। বেস্পতির আগমনে এখন আবার শোনা যাচ্ছে, পুলিশকাকুরা বেমালুম ম্যাদামারা হয়ে গেছে। চৌকো থেকে গোল। হেবি নিরীহ। উদ্ধত মারধর তো উঠেই গেছে, বরং কাল সারা দুপুর বনেটে কাত হয়ে করুণাময় সুরে উই শ্যাল ওভারকাম গেয়েছে। কোরাসে। পুলিসের গলায় অমন ললিত গান শুনে বারান্দায় দাঁড়ানো পাবলিকের মনখুশ। কান খুশ! দ্যাখ দিদি দ্যাখ, ওই গগলস পরা দাবাং কাকুটার কি সুন্দর গলা, না রে?
বস্তুত, সবই ফিল – গুড ডোপামাইন হরমোনের খেলা রে পাগল। কোনোদিন একটু কম পড়ছে, তো মনে হচ্ছে এই রে! এই বুঝি গলাটা একটু খুসখুস করছে, গলে মে খরাস। ভিক্স কি গোলীতে আর হবেনা, এতো অবধারিত করোনা… সেই খুসখুসানি আবার কোনোদিন বেড়ে গিয়ে মনে হচ্ছে, কপালে বুঝি ছ্যাঁকছেঁকে মতন টেম্পারেচার। ওয়াক আসছে বারবার। টনটন করে উঠছে বা হাতের ড্যানাখানা।
আবার যেদিন ডোপামাইনখানা সামান্য বাড়তির দিকে, গুরুগ্রহ বেস্পতি নভোমণ্ডলে খেলছেন স্বমহিমায়, সেদিন আবার মনে হচ্ছে, বাঁচ গ্যায়া শালা! মেরা কুছ নেহি হোগা রে কালিয়া! যাই – যাই এই বেলা মাইগ্র্যান্ট কেল্টে লেবারটাকে চাট্টি ভাত খাইয়ে আসি। আহা লোকটা কালো বলে কি মানুষ না?
Leave a comment