কি ক্লান্তিকর মাইরি! কি বেমানান! উত্তাপ নেই গলার স্বরে, একবারের জন্যেও তারস্বরে চিল্লানো নেই। ভাষণের মাঝে তর্জনী আক্রমণাত্মক ভাবে উঁচিয়ে উঁচিয়ে বেহায়াপনা দেখানো নেই। মাইকটাকে জাপটে ধরে সারা স্টেজ বাঘের মতন পায়চারি করা নেই। অতীতের যাবতীয় বেনিয়ম নিয়ে এলোপাথাড়ি থুতু ছিটোনো নেই। সংখ্যাগুরু অথবা সংখ্যালঘুদের তুষ্ট করতে কমপক্ষে একটা দিনের নতুন করে ছুটি ঘোষণা নেই। ম্যাড়মেড়ে যা কিছু বলছিল, সবই কি’রম যেন মনে হচ্ছিল, ইতিহাস বইয়ের পাতা থেকে টুকলিফাই! ন্যাকা নাকি? আধাঘণ্টার উপর করে বলে গেলো চুন চুনকে আঁতেল আঁতেল সব বস্তাপচা কথা! সহিষ্ণুতা, সঙ্গতি, অবিসম্বাদ, অভিন্নতা, বিশ্বস্ততা, ন্যায় – এই নাকি তোদের ভাষণের স্ট্যান্ডার্ড? পুরো পিপুফিশু টাইপের ভাষণ!
ধেড়িয়েছে বলে ধেড়িয়েছে! লোকেশন ছাড়া তো একটা জিনিষও পাতে দেওয়ার মতন নয়! যারা ভাবছিল, একবারের জন্যে হলেও, লোকটা নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গটা আনবে। এই অ্যাত্ত বড় একটা প্রকৃত ইস্যু, ফর্মুলায় বাঁধা। বেজায় হতাশ হয়েছে তাঁরা! দাঁত কিড়িমিড়িয়ে বলে কিনা, কি ম্যাদামারা লোক রে! আগের ফক্কর রাষ্ট্রপতিটাকে অ্যাটলিস্ট তোলাবাজ বলে দুটো বাছা বাছা খিস্তি তো মারাই যেত! নইলে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে কিসের করিশ্মা? কিমবা মাইনরিটি ভাইবোনেদের জন্য একটা হালকা প্যাকেজ! আচ্ছা ঠিক আছে, নন্দীগ্রামটা না হয় আজকের দিনে আলগোছে এড়িয়ে গেলি, আম্ফানের টাকা নয়ছয়? চাল চুরি? নিদেনপক্ষে, ওইটুকুন বললে কি এমন মহাভারতটা অশুদ্ধ হয়ে যেতো শুনি?
আরে, নতুন রাষ্ট্রপতিটা বহিরাগত নাকি রে? ইতিহাস কপচাতে পারে, কিন্তু ব্যাটা রাজনীতির কিস্যু জানেনা। এইসব কেতাবি ঢঙের কথা না বলে তো, বিগত চৌত্রিশ বছরের হিসেব, মানে লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই, ঝেড়ে দিলেই তো পারতো, আর তারপরে, পাবলিক আরামসে বুঝে নিতো, গেলো দশ দশটা বচ্ছর ধরে গুড় বাতাসা, চড়াম চড়াম তাল দিয়ে কি’রম চালাতে হয়? বুক বাজিয়ে ব্যাটা বর্ণবিদ্বেষ হটিয়ে দেবে বলছে। তা তুমি বাপু, মিনিমাম একটা কালো মানুষের বাড়ীর দাওয়ায়ে বসে পাতপেড়ে দুটো খাবার তো মুখে তুলতে পারতে!
এঁদের হাতে পৃথিবীটা ছেড়ে দিতে তো রীতিমতন ভয় হওয়ারই কথা! তবে একটাই আশার কথা, অনেককটা দিশী মাল আছে, দেখা যাক গুটখার পিকে এবারে হোয়াইট হাউস টা হোয়াইট থাকে কিনা!
Leave a comment