অনর্গল মৃত্যু গুনতে গুনতে যাদের সাময়িক অনীহা হচ্ছে, তারা বাড়ী বসে এখন লাগাতার গুনছে শূন্য! স্বপ্নবিলাসী দেশবাসী একে অন্যকে জিজ্ঞাসা করছে, হ্যাঁরে, কুড়ির পর কয়’টা শূন্য লাগালে যেন লক্ষ হয়, আর তার সাথে কয়’টা জুড়লে কোটি? ধুস, মৃত্যুটিত্যু গুনে হবে’টা কি? তার চেয়ে বরঞ্চ আয় সক্কলে মিলে শুভবোধকে আহ্বান জানাই, আর চল কাঁড়িকাঁড়ি টাকা গুনি। এদিকে যে সকল অবোধ মধ্যবিত্তের ব্যাঙ্কে সামান্য কিছু টাকাকড়ি জমানো হয়েছিল, তুঙ্গী সেনসেক্সের আমলে মিউচুয়াল ফান্ড নামক রসিকতায় গচ্ছিত করা হয়েছিল লাখখানেকের মতন, বেয়াক্কেলে ভাইরাসটা ফাটকাবাজি খেলে রাতারাতি চোয়াল ঝুলিয়ে দিয়েছে তাদের। ফলত মধ্যবিত্তের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই এখন অটোমেটিকেলি জনধন যোজনার আওতায় পড়ে গিয়েছে। কি মজা, এইবারে সেন্টারের টাকা আমার অ্যাকাউন্টে ঢুকল বলে! একদিন সন্ধ্যে আটটা আর তার পরদিন থেকে বিকেল চারটের থেকে নিয়ে ক্রমাগত বাড়ী বসে রোজগার হচ্ছে সকলের। ধরা যাক, বিকেল সাড়ে তিনটেতে যে দেশবাসী অবিরত চোখ ঝাপসা করছিল চাল নেই ডাল নেইয়ের প্রলম্বিত বিলাপে, সহসা আধঘণ্টায় লোকটার কপাল ফিরে গেলো! সে এখন ধারকর্জ করে আতমো-নিরভর হতে চায়। বৌ মুখঝামটা দিলেও হাত-ফাত ধুয়ে ভীতুর ডিম লোকটা অবসন্ন গলায় বলে, যাই কাল সকালের দিকটা একটু ব্যাঙ্কে ঘুরে আসি! কি বলে নাকি লোন দেওয়া চালু হচ্ছে বিনেপয়সায়? আসলে এই খেলাটা দারুণ খেলতেন ডক্টর হাজরা। তবে এখন তো সত্যযুগ। তাই হাজার হাজার হাজরার বদলে এখন হাজার হাজার মুকুল। সক্কলের চোখের সামনে একটা লালমুখো জিরোওয়াটের টর্চবাতি জ্বালিয়ে ডক্টর হাজরা কাঁপা কাঁপা বলছেন, মুকুল তোমরা দেখতে পাচ্ছো? আর নিমেষে মুকুলরা সব ছবির মতন দেখতে পেয়ে যাচ্ছে, মনে পড়ে যাচ্ছে জয়সলমীরের সব গপ্পো। তারপরে আদরের পাঁজাকোলা করে মন্দার বোস ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে সব মুকুলদের। সোনা ঘুমালো, পাড়া জুড়োলো, ভাইরাস এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিবি কিসে? ধুর বোকা চিন্তা কিসের? চিন্তা ভাবনা সব দুষ্টু লোকটার মতন ভ্যানিশ! মন্দার বোসের উষ্ণ কোলে দেশবাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষায় স্বপ্ন দেখছে একটা ফিউচার পারফেক্ট টেন্সের। সেই আশায়, থমথমে অন্ধকারে মলিন চায়ের দোকানে ঝাঁপ পড়ে যাচ্ছে রাত নামার আগেই! আর জটায়ু উঠে পড়ে লেগেছেন পরের উপন্যাস লিখতে। শোনা যাচ্ছে, বইটার নাকি নাম রাখছেন আতমো-নিরভর আগামী।
Leave a comment