Lockdown Diaries # 21

ক্ষ্যাপা ভাইরাসটার ঘাড়ে ক’টা মাথা আছে রে? পাজিটাকে পায়ের তলায় প্রশমিত না করে, ওভারটাইম করা জননেতারা জলগ্রহণ করবেন’না বলে ঠিক করেছেন। তাঁদের হাতে এখন একটাই জ্যান্ত টোটকা। সৌগন্ধ মুঝে ইস মিট্টি’কা - দাও, হালকা করে ছিমছাম লকডাউনটাকে, জাস্ট বাড়িয়ে দাও। শনৈঃ শনৈঃ দু-হপ্তা দু-হপ্তা করে! ছাতি থাবড়ে দেশের কোচ কাম ক্যাপ্টেন বলছেন, ধুস! হতচ্ছাড়া মেসি ব্যাটা’কে তো বল রিসিভ করতেই দোবো না। মিডফিল্ডের সাপ্লাই লাইনটা রাতারাতি কেটে দোবো। প্লাস ষোলো নম্বর জার্সি’র অমিতবিক্রম বাবলু’কে লাগিয়ে দিচ্ছি ম্যান টু ম্যান মার্কিং’এ। সে মেসি হোক আর কৃশানু, বাবলু’দা আমাদের তুড়ি মেরে ম্যাচ বের করে আনবে। ডিফেন্সে স্যররা মারবে, কড়া ট্যাকল, গোললাইন সেভ, আবার কর্নারকিক থেকে আচমকা একটা বল হেড করতে আগুয়ান হবে বিপক্ষের বক্সে!

সাম্যবাদের ধামাধরারা বেঁচেবর্তে থাকলে আজ সোল্লাসে উরু চাপড়াতেন। সেদিন আবার গুছিয়ে মহান পয়লা মে’র শুভদিন বলে কথা। ভিডিও-কলে বসে আমলামহল দেশে সাম্য স্থাপন করছেন। এদিকে সাম্যবাদীরা আল্লাদে আটখানা হয়ে ভাবছেন, এই বুঝি দিল্লীতে তৈরি হচ্ছে, বৈরী শ্রেণিকে সাইজ করে, সর্বহারা শ্রেণির জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ মতাদর্শের ব্যবস্থা। মার্ক্স আর লেনিনের ছবিতে ধুলোটুলো ঝেড়ে বলছেন, দেখছিস প্রবল পরাক্রমে সবকিছুর ঠিক-বেঠিক নিয়ন্ত্রণ করে দিচ্ছে সমাজে। ফল এবং ফলাফল, দুটোই! কি অসাধারণ ব্যবস্থা। সে তোমরা যতই গাল পাড়ো না কেন! বুঝলি, লকডাউনটা আসলে হচ্ছে সাম্যবাদেরই একটা উচ্চতর স্তর। যুগলবন্দী বাজাচ্ছিলেন। পাবলিকের অফুরান হাততালি শুনে, রবিশঙ্কর একটা মিচকি হাসি দিলেন আলি আকবরের দিকে আড়চোখে চেয়ে। যেন ইয়োগা’র সাথে প্রানায়ম। কান এঁটো করা সনির্বন্ধ অনুরোধের সাথে একটা টুক করে ঢুকিয়ে দেওয়া আক্রমণাত্মক অর্ডিন্যান্স।

আরে বাবা! হয়েছে’টা কি? পলিটিক্সের পপুলারিটি ইনডেক্সে তো আর কোন লকডাউন নেই। এদিকে অপোজিসন বলতে দু একটা গাড়োল ছাড়া তেমন কিছু এযাবৎ না থাকলেও, লকডাউনের কুলুপ কিন্তু আঁটা আছে ওদের মুখে। ডাউনটার্নের সাম্যবাদী বাজারে হাজার কেরানি চাকরি খোয়ালেও, ওদের বেকারত্ব তো শুরু হয়ে গেছিল সেই চোদ্দ সালে। আরে শুধু ঘাস বিচুলি ঘাস আর রেড গ্রিন অরেঞ্জ করলে হবে? তার মধ্যে সূক্ষ্ম শেকলটা তো জানতে হবে! মোটামুটি হিসেবে, অধুনা গ্রিনের সংসার চলে যেমন অধুনা রেডের পয়সায়। রেড যথেচ্ছ পয়সা ছড়ায় সামর্থ্য অনুযায়ী আর কায়িক গ্রিনটা তাদের সাধ্যমতন ফলায়। রেড বাড়ী বানায় আর গ্রিন তার শ্রম বিক্কিরি করে মাইগ্রেন্টের মজুরী কেনে। নিন্দুকেরা বলছে, এই সাম্যবাদী একনায়কত্বে বেতন না পাওয়া রেডগুলোই যদি চূড়ান্ত সমবায়ের হিসেবে চলে তবে তো দুদিন বাদে গ্রিনের পাঁজর যাবে বেড়িয়ে। তখন কিই’বা গ্রিন আর কিই’বা অগ্রিন?

সত্যিই তো জাহানের আগে জান। মান অভিমান অপমান সব পরে! এককালের রাশভারী সাম্যবাদীটা এতক্ষণ খুব হাততালি দিচ্ছিল। কায়িক মানসিক, দক্ষ অদক্ষ, আর্য অনার্য সবকটা এসে জুটছে লকডাউন নামক এক মৌলিক ছাতার তলায়। রাস্তায় পায়চারি করতে না বেরুতে পারলেও, যুক্তি ও চেতনার উন্মেষণ তো দেখা যাচ্ছে আস্তে আস্তে করে। তৈরি হচ্ছে পার্থক্যহীন সুসংগঠিত সমাজ! সেটাই বা কম কিসে? হারেরেরেরেরে, আমায় ছেড়ে দে’রে দে’রে! যেমন ছিল সোভিয়েত দেশ, মনের আনন্দেরে। এইতালে একটা প্রাণভরা আশীর্বাদ করতে গেছিল জাতির নতুন জনককে। আর তাঁর জবাবে শুনতে হচ্ছে চোপ শালা, তোরা আবার বলবি কি রে? যা বলার বলব আমরা। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর, যা পারিস চর্ব্যচোষ্য খাস! তখন অবশ্য মহাজনেরা দেদার সুদ খাবে! কিন্তু ক্যাপ্টেনরা কি জানেন না, একদা এক জননায়ক লকডাউন ভেঙেই গড়েছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজ?

Leave a comment