এইফাঁকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুনিয়ার যত ফ্যান্সি অঙ্কবিদ। সাইন, কস আর লগের বিকট হিসেবে সারাটাদিন প্যানর প্যানর করে যাচ্ছে রগরগে সব ফিগার নিয়ে। খটমট যোগবিয়োগের ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে ক্ষণেক্ষণে বুঝিয়ে দেওয়া, শোনো হে দেশবাসী, হ্যান হলে কিন্তু ত্যান হবে। আরে ছোঃ, ইন্ডিয়ার নিয়ম তো স্বতন্ত্র। অ্যান্ড ভেরি ভেরি সিম্পিল। লুচি হলে পাতি আলুর দম হবে, মাংস হলে পোলাও আর বিউলির ডাল হলে হবে আলুপোস্ত। আর সেই মতো, রোজরোজ কেশো করোনা রুগীগুলো দিনের শেষে চমকে প্রমাণ করে দিচ্ছে, ভাইলোগ পিয়ো সির্ফ স্প্রাইট, অঙ্কফঙ্ক সব বকওয়াস। অন্যদিকে ফুলপ্রুফ লিবারেল দিদি বোরখা (থুড়ি বরখা) দত্ত আর আদি অকৃত্রিম কর্ণ থাপার একটা শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ‘দাদা আমি বাঁচতে চাই’ বলে সেদিন অধ্যাপক লক্ষ্মীনারায়ণের গলা ধরে প্রায় ঝুলে পড়েন আরকি! টিভিতে সেই নিউজ দেখে ইন্ডিয়া সমস্বরে বলছে ‘খাইসে, বান্দর আইসে’। ডান্সটন ফাইনালি চেকস ইন! অধ্যাপক লক্ষ্মীবাবুর কথামাফিক, মে মাসের মাঝামাঝি গোটা পঞ্চাশলাখ মতন করোনা পেশেন্ট আর তন্মধ্যে লাখ দুয়েক তো অনায়াসে টপকে যাবে ওঁ অসতো মা সদ্গময়’র এলাকায়। জটায়ু মুগ্ধ হয়ে বললেন, সাঙ্ঘাতিক লোক মশাই! উটের দুধফুধ খায় নাকি? সত্যি লোকটা গুরুদেব লোক। ইন্ডিয়ার গুঁফো বিজ্ঞানী সব শুনেটুনে বললেন, গুরু তুমি তো শুনলাম ইউপিএ জমানার লোক। পেডিকসান দিচ্ছো, নাকি অভিশাপ দিচ্ছো বলো তো? দেশবাসী বলল, লক্ষ্মী ভাইটি, একটুও কি টাইম পাবোনা? যা কিছু পড়ে থাকা পারমার্থিক জীবনের অপ্রাকৃত কাজকম্ম, সেগুলোও করার সময়টুকু দেবেনা হতচ্ছাড়া ভাইরাসটা? গুরুজনদের পেন্নাম জানালে মার্চের আগে অবধি শোনা যেত, বেঁচে থাকো বাবা, দীর্ঘজীবী হও। লক্ষ্মীবাবুর ত্রাসকর গণনার পর, একধারসে সব কাকা জ্যাঠা মামা মেসোরা কপাল চাপড়ে বলতে শুরু করলেন, বুড়ো বয়েসে এও আমাদের দেখে যেতে হচ্ছে। স্টে সেফ বেটা, স্টে অ্যাট হোম। কিন্তু এখন স্লোগান এয়েচে, পালটে গেছে, উলটে দেখুন! সেদিন মার্চেই বিচলিত হওয়া নিন্দুকেরা কিন্তু লক্ষ্মী’কে এপ্রিলে ছেড়ে কথা বলছেনা মোটেও। বরং নির্মম অপপ্রচারের নামে তুলোধোনা করছে সুযোগ পেলেই। দত্তদিদিও বেশ মলিন মুখেই ঘুরে বেড়াচ্ছে ইতিউতি। নিউজ চ্যানেলের গরমাগরম বাজারে গুরুত্ব সাময়িক লাঘব হয়ে গেছে কিনা! হামবড়া কর্ণ থাপারটা নির্বিকার। রিটায়ার্ড হার্ট! তবে অধ্যাপক মশাই নাকি এখনও নাক উঁচু করে নিত্যনতুন বাইট দিচ্ছে। কে জানে, নতুন কোন পারমুটেসন কম্বিনেসন করে কি’সব বলছে মানুষটা? বরখাও সেদিন বলল, আমাদের আর কোন শাখা নেই! আর কর্ণ কিনা জানালো আসল গোপন ঘটনাটা। বলল, অধ্যাপকের এই সাফল্যের পেছনে, রায় ও মার্টিনের গণিত প্রশ্নবিচিত্রা বইটির অবদান কিন্তু সত্যিই অনস্বীকার্য!
Leave a comment