ধরে নেওয়া যাক শুদ্ধুমাত্র দুষ্টু ইকনমিটা’র খাতিরেই, কুমির-ডাঙা খেলা’টা উঠে যাচ্ছে কাল থেকে। অনেক খতিয়ে দেখে ইন্ডিয়ার তাবৎ বৈজ্ঞানিককুল কাঁধ ঝাঁকিয়ে রায় দিয়েছে মুনিঋষিদের কথাটাই নিজ্যস খাঁটি। পেটে খেলে পিঠে সয়। খামোখা ভাইরাসের নউটাঙ্কি করে ডাঙাফাঙ্গা আর নয়, বরং ইকনমিটাকে চাঙ্গা করতেই এইবেলা চলো লেটস গো। জলে ঝাঁপ দেই। এই দ্যাখ করোনা, তোর জল’কে নেমেছি! নেতারাও এদিকে প্রেস কনফারেন্স করে সব একবাক্যে ঘোষণা করেছেন, ঘাট হয়েছে। তং মাত করো! জাদা হো গিয়া, কাফি হো গিয়া! যা দেশবাসী যা,জি’লে আপনি জিন্দেগী। করুণাময় ঈশ্বর তোমাদের ঠিক মঙ্গল করবেন। দেখভাল করবেন। চিল চিৎকারে মেগাস্টার নিউজ অ্যাঙ্কর প্রহরে প্রহরে ধমক দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে, আর আকুলিবিকুলি করোনা। চল রে চল সবে ভারতসন্তান। অ্যাট দা স্ট্রোক অফ দা মিডনাইট আওয়ার, হোয়েন দা ওয়ার্ল্ড স্লিপস, ইন্ডিয়া উইল অ্যাওয়েক টু লাইফ অ্যান্ড ফ্রিডম। ওয়াটসঅ্যাপে হঠাৎ করে গুলতানি সব বন্ধ! আরে মশাই পুরো দেশটা গিনিপিগ নাকি? পালেপালে সন্ত্রস্ত মানুষ দমবন্ধ করে নখ খুঁটতে বসেছে। হালকা উত্তেজনার সাথেসাথে ভয়াবহ দুশ্চিন্তা হচ্ছে কিনা। স্ত্রী চিড়বিড় করে আউড়াচ্ছেন, এইরে! শুনছো কালকেই নাকি আবার চালু করে দিচ্ছে সব হইহই করে? সব’কটা পোড়ারমুখো চ্যানেলে কি বলছে গো। ব্রেকিং নিউজ। কি হবে গো? বাবিনটা তো বলছে কালকেই নাকি চুল ছাঁটাতে যাবে সক্কাল সক্কাল। আমি জানিনা, তুমি কিন্তু সেজো ঠাকুরপোকে বলে কালকেই গোটা পঁচিশেক পুরু মাস্কের ব্যবস্থা করবে! গলার শির ফুলিয়ে যে বিরোধীপক্ষটা ক্ষণেক্ষণে উগরে দিচ্ছিল বিষ, সে পক্ষটাও একটা অজানা অপরাধবোধ থেকে নিউজ চ্যানেলে বলছে, লে হালুয়া! লকডাউন ওভার? ভেরি ভেরি ইরেস্পন্সিবেল স্টেপ, আই মাস্ট সে। একটা ভ্যাকসিন ট্যাকসিন কিছু বেরুলোনা, ভেন্টিলেটর নিয়ে একটা টু-জি’র মাফিক স্ক্যামফ্যাম হলনা, সংখ্যাগুরুর সাথে সংখ্যালঘূর রায়ট হলনা, পাকিস্তানের গুষ্টির তুষ্টি হলনা। কালকেই সব বেধড়ক চালু করে দেওয়াটা কিন্তু এক্কেবারে কাজের কথা নয়। অন্যদিকে যে মনিবটা ঠিক করেছিল এই ডামাডোলের বাজারে মাইনেপত্তর ঝেঁপেঝুপে কোম্পানির লালবাতি জ্বালিয়েই ছাড়বে, সে আজ হেবি নিরাশ। রাখঢাক না করেই বলছে, সব কেরানিলোগ ভি বাঁচ গ্যায়া শালা! আলিমুদ্দিনে সকলে নাক কুঁচকে বলছেন, বেশ ভাল জমছিল সর্বহারা সর্বহারা গেম’টা। হাপটাইম অবধি গোললেস ড্র। কোত্থেকে আবার উটকো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এসে বেকায়দায় ভেঙে দিলো আমাদের কাঁচা ঘুমটা। বাবিনটা পাগল নাকি? শোনো গিন্নি, এইবেলা ইম্পরট্যান্ট কথা একটা জানিয়ে রাখি। জানবে ছোটলোক কিন্তু ছোটলোকই হয়! তুমি তোমার কাজকম্ম চালিয়ে নাও ওই লকডাউনের মতনই। কপাট পুরো বন্ধ আর বাসন ফাসন যা পড়বে, সে আমি ম্যানেজ দেব না’হয়। ঠিকে লোকটা’কে কাল থেকেই পাঁজাকোলা করে আবার ঘরে ঢুকিয়ে বোসো না। তোমার যা বুদ্ধি! বলা তো যায়না, অ্যাদ্দিন তিনি কোথায় আবার ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন। আর আমি ইদিকে একটা দিন পনেরোর ছুটির দরখাস্ত দিয়ে দিচ্ছি। মাইনেফাইনে কাটলে কাটুক বাবা! গরমেন্টের বাতেলায় তো আমাদের মতন মানুষের চলবেনা! মুনিঋষিরাই তো বলেছেন, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। আর ভাল কথা, ডেইলি নুনজলের কুলকুচিটা কিন্তু নিয়মমেনে চালিয়ে যেতে হবে আমাদের। ওদিকে রোদে-রাঙা ইটের পাঁজায় পাওয়ারফুল রাজামশায় বসে ফিক করে হেসে বলছেন, দ্যাখ কেমন লাগে?
Leave a comment