আরে রাখুন মশাই! এই ডামাডোলের বাজারে মিলিয়ে নেবেন। একধারসে তোলপাড় করে দেবে একখানা কোম্পানি। একাহাতে গরম করে দেবে দেশের সেনসেক্স। এলেবেলে দুধেভাত ভেবে নিলে নিজেদেরই লোকসান। এক্সপার্টরা ডানদিক বাঁদিক স্কুপ দিচ্ছে। অন্য মুকুলটার মতন জিভ কেটে বলছে, ‘মিস্টেক, মিস্টেক’! বলে, টাটা, বিড়লা, আম্বানিকে ছেড়ে, এইবেলা অ্যাডভান্সে কুকমি’র শেয়ার কিছু কিছু করে তুলে রাখা উচিৎ! দালাল স্ট্রীটের করোনা চ্যাপ্টারে একমাত্র আনোখা টোটকা। থুত্থুরে কোবরেজ দাদু ফেসবুকে ফরমান দিচ্ছে, ওরে তোরা তোদের দেশে তড়িঘড়ি ভ্যাকসিন ট্যাকসিন বানালে বানা। কাঁহাতক আর ওয়েট করবো আমরা? পরোয়া করিনা, আমাদের ওই কুকমি’র হলুদ-গুঁড়োই জিন্দাবাদ। কিচ্ছু না। সকালে একচামচে, রাত্তিরে একচামচে। ভাই, তেরা পাস গাড়ী হ্যাঁয়, বাংলা হ্যাঁয়, পয়সাকড়ি হ্যাঁয়। মোটামুটি সবকুছ তো হ্যাঁয়। আউর ইধার দেখ। মেরা পাস সির্ফ মা, থুড়ি ইমিউনিটি হ্যাঁয়! যা গিয়ে তোরা। আদিখ্যেতা করে নাকেমুখে লাগা এন-নাইন্টিফাইভ। আমরা সকালে বিকেলে দুচামচে হুলুদগুঁড়ো আর একটা জ্যালজ্যালে নীল-সাদা রুমালেই আরামসে চালিয়ে দোবো। তখন তোরা শুধু ‘দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মতন ফুলবি’। আরে বাবা, কুকমি হলুদগুঁড়োর ব্রহ্মতেজে সর্বনাশা ভাইরাসের ‘ভ’ও কাছে ঘেঁষতে চারবার ভাববে। ফুটবল মাঠে গোললাইন সেভ করতে গিয়ে ধাঁই করে আছাড় খেয়ে, কনুইয়ের ছালবাকল উঠলে, কেবলমাত্র একমুঠো দুব্বোঘাসের রস আর বাড়ী ফিরে চার পাঁচফোঁটা লালওষুধ। ওতেই আমাদের ইমিউনিটি সর্বস্ব দেশের ঘা-ফা শুকিয়ে চুমটি পড়ে যাবে পরদিন সকালে! হ্যাঁ, লজ্জা নেই স্বীকার করতে। এইসব ব্যাপারে দেশটা একটু প্রাগৈতিহাসিক আছে বইকি। ভুত আমার পুত, করোনা আমার ঝি, ইমিউনিটি সঙ্গে আছে, করবি আমার কি? ম্যাজিকের মতন ইমিউনিটি তো আছেই আর তার সাথে যুগলবন্দীর মতন লাগাতার লেগে আছে জোয়ানের আরক, চিরতা, কালমেঘ,তুলসী আর ত্রিফলা। ফি-বচ্ছর পক্সের ভয়ে জানুয়ারি মাসে নিয়ম করে নিমপাতার বড়ি, ভোরভোর কাঁচাহলুদ আর আখি গুড়ের ককটেল, হালকা গলাব্যাথা হলে নুনজলের গার্গেল, ইসবগুল, আদা চা, আর পেটগরমে হালকা করে তেলজল মালিশ। আরে, লক্ষ লক্ষ উদাহরণ আছে রে এ দেশে! আরে বাপু, হাজার হাজার বছর ধরে বেদ উপনিষদে মুনিঋষিরা তো আর ঢপবাজি করে যায়নি রে। এখন না’হয় উচ্চমাধ্যমিকে চোতাফোতা করে ফার্স্ট ডিভিশন লড়ানো যায়। কিন্তু ভাবা যায়, দেশের বাঘাবাঘা মুনিরা লম্বা দাড়িগোঁফ, জটাজুট ধরে, বাঘছালের ওপরে নিপুণ শীর্ষাসনে খাঁড়া থেকে বনবনিয়ে লিখে যাচ্ছে আগামী দশহাজার বছর ধরে প্রাসঙ্গিক থেকে যাবে এমন এক একটা থেরাপি! আর এখন কিনা ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধান, এই মন্দার বাজারে চাট্টি হাইড্রোক্সিক্লোরকুইন জোগাড় করতে পেরে, কান এঁটো করে, করিৎকর্মা নেতার সাথে হনুমানজীর উপমা টানছে? ঠাকুর ঠাকুর করে কেটে যাক এই ডেঞ্জার টাইমটা। দেখবি, সংখ্যালঘূ, সংখ্যাগুরু, গোমড়ামুখো কংগ্রেস, মায় সিপিএম পার্টি অবধি, সব ভেদাভেদ ভুলে স্লোগান দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায় – চক দে ইন্ডিয়া!
Leave a comment