Lockdown Diaries # 11

গত দু হপ্তায়, উচ্ছন্নে যাওয়া পৃথিবীটা মোটামুটি একটা ত্রাণশিবির হয়ে গেলেও, লকডাউন’টা কিন্তু খুব সুইট। আচ্ছা, কোনকালে কি কেউ মালুম করতে পেরেছিল, আধশোয়া হয়ে পেটে হাত বুলোতে বুলোতে ফিনিশ হয়ে যাবে এক একখানা করে অস্বস্তির মীটিংগুলো? এদিকে তেরিয়া বড়সায়েবটা ফোনের মধ্যে বাজখাঁই দাপট দেখাচ্ছে, আর অন্যদিকে ফক্কর কর্মীটা কানে হেড-ফোনখানা গুঁজে দিব্যি ভাইঝির সাথে কাটাকুটি খেলে চলেছে। চিল্লোক মালটা যত খুশী। 

ব্যাটাচ্ছেলে বস’টা খুব বেশী তড়পালে, থুতনিটা ধরে তখন একটাই দাওয়াই! সিওর শট! স্যার ওদিকে খবর শুনেছেন? ইন্ডিয়া তো নাকি আজ পাঁচহাজারের কাছাকাছি। এক্সকিউজ মি স্যার, সামনের ফ্ল্যাটের বৌদি একবার ডাকছে। যাই এইবেলা একটু চাল আর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন জোগাড় করে আনি। শুনেই স্যার মানুষটা নিজেই শিউরে উঠে, দে দৌড়, দে দৌড়। মুহূর্তে চম্পট। 

এখন এটাই নতুন স্বাভাবিক। ওয়ার্ক ফ্রম হোম। কিছু হতভাগা আবার এই বাজারে, দরকারের চেয়ে ভার্চুয়াল কাজ দেখাচ্ছে বেশী। আদিখ্যেতা বুঝি একেই বলে। জানিস, ক্লাস ফাইভ থেকে হোস্টেলে থেকে পড়াশুনো করেছি। মা বাবা ছাড়া! স্বামীজির মন্ত্রে বিশ্বাসী। লকডাউন করেছে বলে নিজের কাজে ঢিলেমি দোবো কেন ভাই? 

সুতরাং, সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে তড়িঘড়ি গোটা দশেক নিষ্প্রয়োজন ই-মেইল, ঊর্ধ্বশ্বাসে চাড্ডি মাল্টিকালারের রিপোর্ট! জানিস কাল সারারাত জাগতে হোলো আপিসের এই রিপোর্টগুলোর জন্য। তোদের মতন ক্যালাসগুলোর লকডাউনের ছুটি থাকলেও, আমার তো তুমুল খাটুনি যাচ্ছে রে ভাই। নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। 

আসলে সবই ইনসিকিউরিটি’র খেলা। ফিয়ার অফ মানি থেকে ফিয়ার অফ মরটালিটি। সারা পৃথিবীতে ডামাডোল। দেশে দেশে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, চাকা কিন্তু বোঁবোঁ করে ঘুরছে উল্টোপিঠে। হুড়মুড় করে বদলে যাচ্ছে সবকিছু। রাতারাতি। টিকতে গেলে তোমাকেও এখুনি বদলাতে হবে! 

কিন্তু বাড়িতে আটকে কিকরে বদলাই এখন? তাই, যে ছেলেটা কিনা গত ছ-মাসে না খেয়ে না দেয়ে, সগর্বে একখানা ছুঁচলো মতন দাড়ি গজিয়েছিল কোহলি’র মতন, সে এখন দাড়িফাঁড়ি কামিয়ে এক্কেবারে ছিমছাম, মাকন্দ। অন্যদিকে, যার কিনা দাড়িগোঁফ ছিল দু-চক্ষের বিষ, সেই দামড়াটা আবার ভাবছে, একবার চেষ্টাচরিত্র করে দেখাই যাকনা এই লকডাউনের বাজারে। রবীন্দ্রনাথেরও তো দাড়ি ছিল হেব্বি। লকডাউন খুললে আমিও তো বাই চান্স এই দাড়ি দিয়েই আইকন হয়ে যেতে পারি রবীন্দ্রনাথের মতন! 

সেই শুনে সগগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তো হেসে কুটোপাটি! পাশে পদ্মফুলে আসীনা মা’লক্ষ্মীকে চোখ টিপে বললেন – বেচারা কি জানে? গঙ্গারামেরও দাড়ি থাকে! 

Leave a comment