Lockdown Diaries # 9

দিন পনেরো আগে অবধিও, ঝামেলাটা ছিল এরোপ্লেনে চাপা ইন্ডিয়া মাতার অ্যাংলো বাবুগুলোকে নিয়ে। প্রমাদ গুনেছিল গোটা ইন্ডিয়া। অধঃপতনটা দ্যাখো একবার! যাও আরও হ্যালহেলিয়ে। অ্যামেরিকার সেবা করো ইন্ডিয়া-মাতাকে ভুলে। সারাটা দিন নিতম্বে সায়েব কোম্পানির জলবিছুটি ঘষে, রাত্তিরে একটুকরো পিৎজা আর একঢোঁক কোক গিলে, কাঁড়িকাঁড়ি ডলার জমাও আর পঁচাত্তর ঘরের নামতা বিড়বিড়াও সারাদিন।

ইসসস। তখনই পইপই করে বলেছিলুম… যাসনা। অ্যাত্তগুলো পয়সার শ্রাদ্ধ করে ছেলেকে আমার আইটি – ফাইটি পড়ানোই বিপদ হয়েছে। আরে বাবা! ঘরের ছেলে ঘরে থাকতিস। সন্ধ্যেবেলা ক্লাবে ধুপধুনো দিয়ে তাস – ক্যারম পেটাতিস। পূজোয় নিত্যনতুন থিমের প্যান্ডেল নামাতিস। তা না। ছেলের আমার গ্রিনকার্ড হবে! বিলিয়নিয়ার হবে, টালির চালের বাড়ি ছেড়ে, ছেলে আমার সাতমহলা অ্যাপার্টমেন্টে থাকবে। ঠ্যালা সামলাও এইবার!

ভালই চলছিল। জটায়ু কথায় কথায় বলছিলেন, বুঝলেন ফেলুবাবু, গড়পাড়ের ওই দত্তদের বাড়ির ছেলেটা। গতকালই নাকি ফিরেচে নিউইয়র্ক থেকে। চোখমুখ দেখে তো মনে হল, হাইলি সাশপিসাস! শুধু জটায়ু নয়, গ্লোব ট্রটার মন্দার বোসেদের খবর জানতে পেলেই, তাবৎ পাবলিক থ্রু পাস ঠেলে দিচ্ছিল তাঁর ট্র্যাভেল হিস্ট্রি’র কোর্টে।

কিন্তু মাক্কালী বলছি, মাঝখান দিয়ে, ইন্ডিয়াটাকে বেইজ্জত করে দিয়েছে এই পোড়ারমুখো জামাত’টা! আইনের ধার ধারেনি। লক্ষকোটি বার বলা সত্ত্বেও ব্যাটাচ্ছেলেরা সাবান জলে হাত চোবায়নি। আর এই সুযোগে, সাঁ করে ওভারটেক করে, ব্যাধিটা হুট করে পৌঁছে গিয়েছে ইন্ডিয়া থেকে ভারতে। ইন্ডিয়া ভার্সেস ভারত। হাফটাইম অবধি ইন্ডিয়াটা হারছিল পাঁচ গোলে, আর গতহপ্তায় জামাতের কেচ্ছায়ে ভারতকে এখন পরপর হাফডজন গোল ঠুসে দিয়েছে ইন্ডিয়া।

স্তম্ভিত হয়ে গেছে ভারত! সব প্রোগ্রাম ভেস্তে দিয়ে, গাঁয়ের মানুষকে, রেলবস্তির ইজের পরা বাচ্চাটাকে, আটকে পড়া মাইগ্র্যান্ট লেবারটাকে মোমবাতি জ্বালাতে বলেছে গরমেন্ট। মানুষ এদিকে চিল্লোচ্ছে, ভোট চেয়েছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি! সবকা মালিক এক। বস, তুমি একটা বলবে, আমরা পাঁচটা জ্বালাবো। মোবাইল জ্বালিয়ে রাখতে বলবে ন’মিনিট ধরে। নয় কেন? টানা নিরানব্বই মিনিট ধরে জ্বালাতে রাজী। হাতদুখানা টনটন করলে করুক, মাজায় ঝিঁঝিঁ ধরলে ধরে যাক। ঠ্যাং দুটো কাঁপুক, মহাপ্রলয়ে কেঁপে যাওয়া পতাকার মতন। রাত নটা বলো, রাত নটা। বারোটা বলো বারোটা। যা বলবে, যখন বলবে, হে জাগরূক জননেতা, মেনে চলবো আমরা।

আসমুদ্রহিমাচল কেবল ঘ্যানঘ্যানিয়ে আউড়ে চলেছে, “তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর, এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা”। আব্বুলিশ মেরে কানাগলি দিয়ে পালিয়ে গেলে চলবেনা গুরু! বিহঙ্গের ঘাড়ে এ-মুহূর্তে সমূহ দায়িত্ব। ইন্ডিয়া তো সামলে নেবে, কিন্তু সামলাতে পারবে ভারত? নাকি বিহঙ্গ এইবারে গোনা শুরু করবে – উবু, আপন বাপন চৌকি চাপন, ওল ঢোল, মামার খোল, এই ছেলেটি খাটিয়া চোর… হে মহান হেলথওয়ার্কার… ওই মানুষটাকে আর ভেন্টিলেটর দিয়োনা, একটা খাটিয়াই দাও বরঞ্চ!

One response to “Lockdown Diaries # 9”

  1. Amitava biswas Avatar
    Amitava biswas

    wah bhai – potangpen choluk

    Like

Leave a comment