Lockdown Diaries # 6

এর মধ্যে মুদির দোকানটায় চুরি হয়ে গেলো। ব্যাটারা ভালই সাপ্লাই দিচ্ছিল চাল, ডাল, তেল, নুন। আর এদিকে বেয়াক্কেলে চোরটা কিনা একমুঠো চালও নেয়নি, ডালও নেয়নি? থরেথরে সাজিয়ে রাখা আলু–পেঁয়াজের স্টকে হাত পর্যন্ত ছোঁয়ায়নি। এমনকি পুঁচকে পুঁচকে স্যানিটাইজারেও হাত লাগায়নি। কেবলমাত্র ক্যাশবাক্স থেকে বেমালুম সটকে দিয়েছে কয়েক হাজার টাকা। আজব মুখ্যু চোর বলতে হবে! ওরে, টাকা দিয়ে তো তুই চাল আলুই কিনতিস রে গাধা! 

ইতিমধ্যে গোটা পাঁচেক পেয়াদা এসে রাউন্ড মেরে গিয়েছে। ওই একই গতের জেরা। ইয়ে ক্যা হুয়া, কব হুয়া, ক্যায়সে হুয়া টাইপের গান… ইত্যাদি ইত্যাদি। পুলিশ দেখে মুদির বাচ্চাটা অনবরত ফোঁপাচ্ছে সাইডে দাঁড়িয়ে। পাশের বাড়িটার থেকে কে একটা আবার সেই হল্লার ভিডিও রেকর্ডিং করে নিয়েছে টুক করে। তাকে আর পায় কে এই বাজারে? সেই ক্লিপ অবিলম্বে সোজ্জা ওয়াটসঅ্যাপে। 

এলাকার পাবলিক হামলে পড়ে বলছে, কি কাণ্ড, কি কাণ্ড! কাছাখোলা কাত্তিক নাকি ব্যাটা মুদি’টা? ব্যাটা ভোঁতা। এই বাজারে অ্যাত্তগুলো টাকা, কেউ অমন ক্যাশবাক্সে রাখে? জানিস না, এলাকার লেবারগুলো গ্রামে ফিরতে পারছেনা? “স্টে অ্যাট হোম, স্টে সেফ” খেলাটা খেলছে। দেখে নিস, কাল রাত্তিরে তো স্রেফ চুরিই হয়েছে। এইবারে যথেচ্ছাচার হবে। ছিনতাই হবে। 

লকডাউন অমান্য করে রাজনীতির দাদারাও এসছিল। খানিক দেখেশুনে পবিত্র গলায় বলল, মোকদ্দমা করা উচিৎ গেঁড়ে চৌকিদারটার নামে। মাস ফুরোলেই, ওর মাইনের থেকে পয়সা কেটে, দিয়ে দেওয়া হোক মুদির পোঁ’কে। ব্যাস ঝামেলা মিটে গেলো। হিয়ার এন্ডস দ্যি ভেরি ম্যাটার। তারপরেই দাদারা বেমালুম হাপিশ। 

রাজনীতিকের যুক্তি শুনে চৌকিদারের আক্কেল গুড়ুম। কি বলছেন দাদা? টাটা কোম্পানী দেড়হাজার কোটী দিচ্ছে, অক্ষয়কুমার পঁচিশ। কই ওদের তো মাইনেতে টান পরছেনা এ মাসে! এরই মধ্যে একটা ছ্যাঁচড়া লোক নাক থেকে মাস্কখানা নামিয়ে চৌকিদারকে বলল, ইকোনমিক ডাউনটার্নটা বরাদ্দ সুদ্দু তোর জন্য। তুবড়ে যাবি তুই! আর যায় কোথায়? তারপর থেকে কোরাসে কান্না। ইসসস… নিয়তি আর কাকে বলে? 

Leave a comment