ঈশ! রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে কি যে করতেন? ভাবতেই বেদম খারাপ লাগছে। শ্রীজাত’র মতন কবি কিনা আজ মনকষ্টে পদ্য লেখা ছেড়ে দিচ্ছে! সোশ্যাল মিডিয়ার হরেক কোম্পানি দিদি’র কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে, কার্ফু-টার্ফু তুলে নেওয়ার জন্যে। আর নেওয়া যাচ্ছেনা। এবারে কিন্তু হ্যারাসমেন্টের পর্যায় চলে যাচ্ছে। কবি আর অ্যামেচার মানুষের ভেদাভেদ ভুলে, বাংলা পদ্যজগতে এমনতর ব্যাপক প্লাবন ফেসবুকে আগে কোনোদিন দেখা যায়নি কিনা।
ঘরবন্দীর আগে অবধি দেখা যেত ভয়ডরহীন তুমুল সেলফি। পানসে জীবনটাকে নিয়ে বেঁচে থাকা একটা মানুষ। পরিবেশ তার মোটামুটি একই। কোনোটা বাড়িতে। একা। কোনোটা ঠোঁট কুঁচকে শপিং মলে। বিশ বচ্ছর বাদে দেখা হওয়া ইশকুলের চারটি মেদবহুল বন্ধুর সাথে গদগদ হয়ে। আর তার সাথে নিচে জুড়ে দেওয়া হতো আন্টু-পান্টু পোস্ট। ফিলিং গুড, ফিলিং লাভলি উইথ বেস্টী’জ গোছের।
কিন্তু এখন আবার আইন করে লেঙ্গি মেরেছে হতচ্ছাড়া ভাইরাসটা! পুটকি মোটামুটি জ্যাম। বাড়ীতে বসে থেকে আবার দাঁড়ি কামানো, লিপিস্টিকটা হালকা বুলিয়ে নেওয়া? ধুস, সেলফির চেয়ে বরং একটা জব্বর পদ্য লেখা যাক। কাতারে কাতারে সেলফিওলা যে রাতারাতি ঝাঁকে ঝাঁকে কবিতে কনভার্ট হয়ে যাবে সেটা কিন্তু আন্দাজ করা যায়নি। ধরা যাক কেউ তার পোস্টে লিখলেন, দাঁড়াও বন্ধু, দাঁড়াও দূরে, অন্তত এক মিটার / আমায় তুমি আমার মনে, বাজাতে দাও গীটার।
অন্যদিন হলে, সপাটে একটা চড় খেতো কানের গোঁড়ায়। কিমবা কালশিটে ফেলা একটা কমেন্ট। কিন্তু এখন তো আবার আইনেই বলেছে, সদা পজিটিভ থাকুন! পজিটিভ রাখুন। মনের মধ্যে কদাচ নেগেটিভিটি এসে তড়পালে চলবেনা। মারণব্যাধির সঙ্গে লড়তে হবেনা? সৃষ্টিকর্তা নিজে সোল্লাসে বলেছেন, যা ঢুকে, থাকবি সুখে। এ সুযোগ পাবেনা আর… বলো ভাই কি দাম দেবে? দুনিয়ার বাঙালী কবি এই জোয়ারে সামিল হও… উশুল করে নাও ঘরবন্দীর দিনগুলো! হাড়ভাঙা খাটুনি করে আর লাইক পেতে হবেনা। গ্যারান্টি দিচ্ছি কেউ চুলকবেনা তোকে। তুই লেখ… তাছাড়া পদ্য লিখলে আমাশা অম্বল সেরে যায়। জানিসনা? ফাটিয়ে দে ভাই! আজকে তুইও ভাইরাল আমিও ভাইরাল। 😅
Leave a comment