Lockdown Diaries 4

কুমড়ো ছিল যার দু-চোক্ষের বিষ, একটুকরো মুখে পড়লেই নাড়িভুঁড়ি পাকিয়ে উদ্দাম বমি উঠে আসতো, সেই মানুষটা আজ হাতরুটি’র সাথে আলু কুমড়ো ছেঁচকি সহযোগে শর্টে ব্রেকফাস্ট সারলেন। কি দরকার বাবা, বাজার শুনছি ভাল’না। ডিম-ফিম তোলা থাক কালকের জন্য। 

গেলোহপ্তা অবধি ভুরভুরে গন্ধ ওঠা দার্জিলিং চা ছাড়া যার ঠোঁটে রোচেনি, সেই মানুষটা আজ সস্তার পাত্তির কড়ক চা’য়ে সুড়ুত করে একটা চুমুক মারল। আঃ। এই চালু চায়ের ব্যাপারই আলাদা। আচ্ছা আমরা এখন এই চা’টা খাইনা কেন? জানিস এরম পেতাম আমাদের কলেজের ক্যান্টিনে। হুবহু এই স্বাদ। কি যে এখনকার সব তিতকুটে কষ-কষ চা? 

চমকে যাওয়ার মতই ব্যাপারখানা। ক্যালেন্ডারের দিন তারিখ ঘুলমুলিয়ে দুরন্ত স্পীডে পৃথিবীখানা ঘুরছে উল্টোদিকে। মানুষের কোনও পরোয়া নেই তার। ভবিষ্যতে পালানোর পথটা সিল করে দিয়েছে। কিংসাইজ ছেড়ে তিনরাত্তিরে নামিয়ে এনেছে ফিল্টার উইলসে। সংযত করেছে। শাসন করছে। আর দু-চারদিনে হয়ত ফক্কুরে বিড়িই কপালে ঝুলছে সেই কলেজের মতন।

দিনের বেলায় এলাকা সুনসান। নীরব। পরিমিত পরিবেশে দাঙ্গা নেই, চুরি নেই, ডাকাতি নেই। ব্রণ নেই, খুশকি নেই। সর্বহারার বিপ্লব নেই। আগবাড়িয়ে পাবলিকের পা-মাড়ানো ঝগড়া নেই। কোর্টে ইয়াব্বড় তালা ঝুলছে। ননদের সঙ্গে লুডো খেলতে বসেছে ঠোঁটকাটা বৌদি। অন্যদিকে চারভাই মিলে তাস। মায় নেড়িগুলো অবধি শান্ত। কাকে দেখে আর চিল্লোবে? 

সর্বনাশ। নিন্দুকেরা বলছে, এবারে পুজোটাও নাকি পিছিয়ে দেবে সরকার থেকে? কে জানে? এই নিয়ে তুখোড় জল্পনা চলছে গুলবাজ সোশ্যাল মিডিয়ায়। অ্যামাজন আজ অনেকদিন পর ব্রাজিলের একটা মস্ত নদী। আহ… তুমি ছাড়ো তো ওসব। এখন মাথা ঘামিয়োনা। পুজোর তো অনেক দেরী! আর শোনো, দুপুরে তুমি মাখামাখা করে ওই কুমড়োটাই করো। আহ… মিষ্টিমিষ্টি টেস্টটা এখনও মুখে লেগে আছে। 

Leave a comment