Lockdown Diaries 1

আরে বাবা… গেঁয়ো তো শুধু প্রত্যন্ত গ্রামেই হয়’না। বড়-বড় গালভরা শহরেও হয়। এই জরুরী অবস্থাতেও, এহেন কিছু মার্কামারা গেঁয়ো এখন’ও বুঝে উঠতে পারেনি ‘লক – ডাউন’ – টা আবার কি বস্তু? জিনিষটা খায় নাকি গায়ে মাখে? হপ্তাখানেক আগে থেকেই প্রমাদ গুনছিলেন বিদেশে বসবাসকারী ভারতবাসীরা। গাল পাড়ছিলেন অহরহ।

আর এখন বাইশে মার্চের জনতা কার্ফু’র পরে, শুধুমাত্র বিদেশ নয়, এখন সব শহরেরই অধিকাংশ নাগরিক সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাল্কনি থেকে এইসব গেঁয়ো উজবুকগুলোকে শুধু গাল নয়, মনে মনে কাঁচা খিস্তিও করছেন। আর তবুও কিছুটা ভদ্রতার মুখোশ রেখে ফেসবুকে লিখছেন, “দ্যাখো কাণ্ড মর্কটদের, সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং’টা কে বোঝাবে এই মালেদের”?

কথাটা একদম খাঁটি! সত্যিই তো। এমন একটা বিপদের দিনে, কে বলেছে বাপু তোমাদের মদের ঠেকে ভিড় জমাতে, সকাল-বিকেল জনতা কার্ফু’র সাফল্যে বিজয় মিছিল বের করতে? ঘরেই তো বসে থাকতে পারো। তাতে তোমারও মঙ্গল, আমারও মঙ্গল।

কিন্তু সুশিক্ষিত শহুরেরা ভেবে দেখবেন কয়েকটা জিনিষ। একটা ভাঙাচোরা দোতলা বাড়ী, শেষ মেরামতির কাজ হয়েছিল ষাটের দশকে। দুটো তলা মিলিয়ে প্রায় তিরিশটার মতন ঘর হবে। গোটা বাড়ীতে, বাথরুম সাকুল্যে দুটো! তাতে আবার দরজা ফরজার কোনও বালাই নেই, নারীপুরুষ নির্বিশেষে শরম ঢাকতে একটা করে শতছিন্ন পর্দা টানানো।

সেরকম এক একটা দশফুট বাই দশফুট কামরায়ে, বসবাস করছেন কিছু নাহলেও জনা পনেরো করে মানুষ! গড়ে। তাঁরা মূলত পেশায় ওয়াচম্যান, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, এসি মেকানিক, গাড়ী ড্রাইভার বা ছুতোর মিস্তিরি! সংখ্যাটা পনেরোর বেশীও হতে পারে। অর্থাৎ গড়ে এরকম এক একটা দোতলা বাড়ীতে দিনের পর দিন থাকছেন চারশো থেকে পাঁচশো মানুষ। আর এরকম বাড়ী হাজারে হাজারে!

তেমনই একজনের থেকে ফোনে জানা গেলো, তাঁরা সক্কলে সবকিছুই জানেন। বোঝেন। রোজ রাত্তিরে দেহাতে একটা করে ফোন করেন। আমার আপনার মতনই বাপ-মায়ের খোঁজখবর নেন! দুটো হাসিঠাট্টা, মায়, ইশকুলে যাওয়া বোনটার সাথে ভিডিও কলিং’ও দিনে একবার করে বাঁধা। টুইটার, ইন্সটাগ্র্যাম না থাকলেও, ফেসবুক আর ওয়াটসঅ্যাপ প্রায় প্রত্যেকের ফোনেই আছে।

“এইসব ঝামেলার বাজারে তোমরা হুটহাট বেরোচ্ছ কেন গো ফালতু ফালতু? যতই চক্কর কাটো, কাস্টমার তো আর পাবেনা! সবই তো এখন লক ডাউন? ঘরবন্দী হয়ে থাকতে ভাল্লাগেনা”? জবাব এলো, “নাহি সাব! মেরেকো ভি ডর লাগতা হ্যাঁয়! ভাইরাস’কি ডর! লেকিন মেরা ঘরপে’ই চার-পাঁচ’কা বহুত জাদা সর্দি – জুখাম হুয়া। আপ হি বাতাইয়ে সাব, ক্যা করে”? আমি আর কি বাতাবো রে ভাই? সুমন চাটুজ্জে হলে বলতেন, প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও তো জানা!

Leave a comment