জানিস ভাই
এপ্রিল ৭, ২০১৯
থ্যাঙ্ক য়্যু রে ভাই, থ্যাঙ্ক য়্যু.. আজকাল যে সব কেমনি হয়ে যাচ্ছে না রে ভাই.. শালা বিশ্বাসই হতে চায়না। শালা ঘড়ি ধরে রাত বারোটায় বার্থডের মেসেজ, তারপরে তোর কেক কেটে সে শালা মুখেচোখে মাখিয়ে দেওয়া, তারপরে সব গোল করে নেচে নেচে ইংলিস গান! কেমনি যেন স্বপ্নের মতন লাগে রে ভাই! তারপরে ওইসব এন্তার গিফ্টমিফ্ট তো আছেই রে ভাই.. আমাকে তো সেই গেলোবার, তোদের বুলনদি, একটা ফুলহাতার সাদা সার্ট দিলো। শালা, কোনোদিন ফুলহাতা সার্ট পরতে দেখেছিস বল আমাকে ভাই? তার ওপরে সার্টটা এক্কেবারে ফটফটে সাদা, ফুল হোয়াইট, যেন শালা কোন বড় সাহেব কোম্পানির মস্ত কোনো অফিসার। আর এবারে দিল একটা কালি ভরা দামী কলম। বল ভাই, কোনোদিন আমাকে দেখেছিস পকেটে পেন রাখতে? শালা পেন আমার কিসের দিয়ে লাগবে বলতো ভাই..
ভাই আমার না, কোনোদিন না, জন্মদিন টন্মদিন হয়নি রে ভাই। জানিসই তো তোরা সব, গরীব ঘরের ছেলে তো, কেক কাটা, বেলুন ফুলোনো, ওইসব আমাদের স্বপ্নের মতন ছিল রে ভাই। সেই একবার পালেদের বাড়ীতে আমাদের সবকে ডাকলো। ওইযে ওদের ছোটো ছেলেটা আমাদের সঙ্গে খেলতে আসতো না, ট্যাঙ্কের মাঠে? সেই ওই ছেলেটারই জন্মদিন ছিল। বাপিন শালা বারো তেরোটা পরোটা খেয়ে, সে শালা সারারাত বমি। শালা হাঘরের বাচ্চা.. আমরা সব মিলে খুব খিস্তি করেছিলাম মালটাকে। তবে আমিও কম যাইনিরে ভাই সেদিন.. গোটা আটেক মেরেছিলাম আমিও।
আজ তোরা কেমনি কেক এনেছিস, গান বাজাচ্ছিস! খুব আনন্দের মধ্যেও কেমনি যেন একটা লাগছে রে ভাই! কেমনি একটু থতমত লাগছে রে ভাই। সবাই তোরা আমাকে এতটা ভালবাসিস ভাবতে কেমনি যেন চোখটা জ্বালা জ্বালা করে উঠছে রে ভাই। বললে বিশ্বাস করবিনা ভাই, এই বয়েসেও লাগছে কি, শালা সূর্য্য চাঁদ তারা, শালা গাছ, গাছের পাতা, এই ট্যাঙ্কের মাঠের ঘাসের উপরের ফোঁটা ফোঁটা শিশির, ওই হলদে প্রজাপতিটা, এই গোটা ওয়ার্ল্ডের সব বুঝি আমার। এই বিকেল বেলাটা আমার, তোদের বুলনদির ওই লালটিপটা আমার, মনে হচ্ছে ভাই, সবাই আমারই ছবি আঁকুক, আমারই কথা বলুক, আমাকে ঘিরে থাকুক এই আজকের একটা সারাদিন। শালা দেশ আমার, জাতি আমার, সংসার আমার, সমাজ আমার, সব শালা আমার।
দ্যাখ দেখি, কেমনি ফুল ন্যাকা বোকা দেখ তোদের এই ভাইয়াদা টা?
Leave a comment