জানিস ভাই # ১

বাঙগালী নও-ভর্শ’কে হার্দিক শুভ-কামনায়ে – পহেলা ভইসাক – চৌদাসো পচ্চিসস

শোন ভাই – আজ একটু করে হলদিরামের কাজু বরফি নিয়ে বাড়ী যাসতো। খেলাম আজ। হেবি জিনিষটা… বাপিদা দিল। ওই তোদের ছাতার-মাথা নবীন ময়রা, ভীমনাগ, সাউথের বলরাম আর বাঞ্ছারাম – ও সব না অনেক ন্যাকরা হয়েছে… অনেক কপচানো, অনেক বেহুদা বুলি, অনেক বেকার বাতল, অনেক রকমের বেইজ্জতি। কাজু খেয়ে বলছিনা ভাই, এবার কিন্তু ভাই হাই-টাইম এসে গিয়েছে… ভালোয় ভালোয় শিশু ভোলানাথের মতন মাথা পেতে, মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই কিন্তু। একটা দুটো ধরণী থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু সরণী নেই রে ভাই বিলকুল। মেনে নে ভাই – তোরা এই জাতটা না, মোটের ওপর কমপ্লিট একটা বেফায়দা টাইপের মেটিরিয়াল। বামনদেবের মতন ‘এক কথায়ে প্রকাশ’ করতে গেলে না – স্রেফ দুটো সিম্পল অক্ষর – ‘মাল’। ভাই তোদের না খালি বেকসুর জ্ঞান, গান, গুলতানি আর গলাবাজি – মানে ফুল ‘ফোর – জি’ জিনিষ। আগে কিন্তু ভাই টু-জি ছিলিস… কেবল গান আর পাড়ার মোড়ে আর পার্টি অফিসে বসে গল্প। এখন পুরোদমে গুলতানি আর গলাবাজি দিয়ে না গোটা ব্যাপারটাকে তোরা ‘ফোর-জি’ করে দিলি কাকা! না মানে, আপগ্রেড তো করতেই হয়, তাইনা? সে তোদের পানের দোকানের প্রিপেড হোক বা বাপের হোটেলে পোস্টপেড। তা বলে না বলে’কয়ে একেবারে ডাইরেক্ট পাওয়ার রিচার্জ মারলি ভাই?

ভাই সেই তোর দুটো ভাত দিয়ে মারা তাপ্পিওলা আধতেল ঘুড়িটা? ভালই বেড়ে খেলছিস কিন্তু ভাই আজকাল। নো চেত্তা, নো কান্নিক, ওনলি থিং ইজ – আগে বেশ রঈসি কায়দায়ে খেলতিস খান্না সিনেমার সামনে থেকে ইম্পোরটেড ইস্পেসাল টানামাঞ্জায়ে, আজকাল বোধহয় খেলিস ছেড়ে, ঢিলমাঞ্জায়ে। তাই না? টানামালটা আজকাল বোধহয় খান্না আর বানায় না? না রে? আর কেই বা কিনবে বল? আর কার সাথেই বা খেলবি… এলাকা তো ফুল খালি বে! কাকও নেই একটা। যদি কোন দেড়েল পলিটিকাল আর্টিস্ট আবার দুম করে একটা পিকচার এঁকে দেয়। সব বাবু, সব বাবুসোনা, বাবাই, বুড়ো, বাপন… সব নাকি ব্যাঙ্গালরে? মানে মোট কথা এলাকা একদিক থেকে দেখতে গেলে, ফুল খালি! মাইরি বলছি ভাই, ফুল মা’র দিব্যি করে বলছি রে, একদম না বিন্দাস আছিস ভাই! ঠাকুরপো হয়ে আগে মাঝেসাঁঝে ডায়মন্ড হারবার যেতিস। ডে – ট্রিপ ছিল, সাগরিকাতে দুপুরটা ছোট্ট করে কাটিয়ে, বিকেলে ব্যাক তো প্যাভিলিয়ন – এন্ড অফ ডে’জ প্লে। এখন শালা এসব ঠাকুরপো কেসে না হাজার বায়নাক্কা… বেকার কেস। যদি কেসলগ্নে থাকিস ভাই, সকাল-সকাল ধরে আন্দার করে দেবে, তারপরে সারাদিন থাকো ব্যাটা বেঞ্চিতে বসে। সেই বিকেল বেলা বড়বাবু এলে, তারপরে যা হওয়ার হবে, প্লাস হাজার পাঁচেক খরচা। এখন কেস অনেক কঠিন। স্বামী হয়ে ঢোকার আগে আঁধার দেখাও রে, তারপরে প্যান দেখাও রে। আরে পাগলা, আমাদের কাছে ‘প্যান’ মানে প্যান। ব্যাটা প্যান সাথে রাখি বে, মানে প্যান ফরটি। মানিব্যাগে পয়সার খাপে না, দুটো তো রেগুলার বেসিসে রাখি। ঝিঙ্কুবৌদির সাথে ইনটুমিন্টুর আগে একটা বাডঅয়াইসার স্ট্রং মারলেই কি বিপুল চোঁয়া ঢেকুর আর পেল্লায় বুকজ্বালা। তারপরে কি আর ওসব হয়?

কিন্তু ভাই ফ্যামিলি নিয়ে ওসব নয়। ফ্যামিলি ফুল সম্মানের ব্যাপার। কোনরকমের সস্তা জিনিষ চলবেনা। মানে পুজোতে, দেওয়ালীতে একটা তৃপ্ত ‘দিপুদা’ টাইপের লোক। দিঘা পুরী দার্জিলিং। ওয়ান নাইট জার্নি… বিন্দাস যাও, কাটিয়ে এসও দিন চারেক… আজকাল তো ভাই সব এসি থ্রী’তেই যাচ্ছিস, নো স্লিপার। জাস্ট হান্ডরেড টুয়েন্টি ডেজ আগে হাজরা মোড়ে সকাল আটটায়ে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে নাও। তারপরে নিশ্চিন্ত। এখন তো আবার মাঝে মাঝে দার্জিলিঙের পোঙ্গাপাকা জঙ্গিগুলোর জন্য ডুয়ার্স চত্তরে আনাগোনা করছিস বেশী। তাছাড়া আজকাল বেরিয়ে সুখ আছে ভাই। ওই নৈহাটির ভায়রা’র ব্যাঙ্কের কলুটোলা ব্রাঞ্চের একটা বেশ খোলামেলা হলিডে হোম! সকালের দিকটা আটার লুচি, ঝোল ঝোল তরকারি আর একটা খাজা মেরে, একটা স্প্রাইটের বোতলে একটা হাফ পাইট আর লেহর কুরকুরে। আর রাত্তিরে তো টোটাল কুল। ঝাল ঝাল করে একটু চিকেন, তিনটে রুমালি, শসা কুচি আর একটা বিপি। তারপরে আরও মস্তি আছে! স্বর্গদ্বার বীচে ‘উড়ে’ রিকশাওলার পেছনে ‘ধাঁইকিরিকিরি’ বলে একটু খেজুর, জগন্নাথ মন্দিরে পাণ্ডার সাথে ম্যান্ডেটরী গলাবাজি, হাওড়া স্টেশনে নেমে খোট্টা কুলির সাথে অসহ্য হিন্দি’তে দরাদরি… ভাই’রে আজও হেভি চালাচ্ছিস দাপিয়ে কিন্তু।

তোদের ঠাটবাটই আলাদা, ভাই! কে যেন সেদিন বলছিল, হাওড়ার কোন কলেজে নাকি যত্ত মেড়োগুলো ‘কলকাতা’ ইংলিস বানানে, একটা ‘টি’ না’দিয়ে ব্যাটারা নাকি দুটো করে ‘টি’ লাগাচ্ছে। বলে কল্কাত্তা… কেন ভাইটি? তার থেকে তো ভাই, ‘ক্যালকাটা’ ভাল ছিল রে! শালা, যত্ত সব মেড়োগুলোর ঝামেলা। ব্যাটাদের থাকতে দিয়েছিস ভাই, ভিসা পাসপোর্ট ছাড়াই, মালগুলো কেন বোঝেনা বলতো ভাই? আর লক্ষ করবি ভাই, বহুত সেয়ানা হয়েছে আজকালকার মেড়োগুলো… আগে যখন শ্রীকলোনি লালকার মাঠের কাছে থাকতাম ভাই, তখন তো বোধহয় মাত্র ফোরে পড়ি। তখন পাশের বাড়ীর সরকার জেঠিমা বলতো ‘মাউড়া’। খুব হাসি পেয়ে যেতো রে ভাই। যতো মাউড়া, খোট্টা, উড়ে আর তেঁতুলগুলো – সক্কলকে নিয়ে সরকার জেঠিমা যা হেবি রগড় করতনা! আর তার সাথে পাঞ্জাবী ট্যাক্সি ড্রাইভারের জোকস!

একটিবার ভেবে দ্যাখ ভাইটি, পুরো কেসটা কিন্তু আমাদের হাতেই ছিল, বেকার কিচাইন করে দিল, ওই মুর্শিদকুলী আর আলিবর্দি মালটা। ওই যে সিরাজের দাদু রে! কি দরকার ছিল তোদের মধ্যেমধ্যেই জগত শেঠের কাছে টাকা ধার করবার? শালা সবকটা ক্লাইভের চর… আর যতো সব কম্পাউন্ড ইন্টেরেস্টের মাল। কি দরকার ছিল বলতো আমাদের জমিদারগুলোর, এই গিলে করা পাঞ্জাবী, এই চুনট করা ধুতি পরে রেশমি বাঈয়ের পায়ের পায়েল! কলজেটাকে করুক ঘায়েল… আরে বাজাতো না হয় শশিকান্ত কাহারবা। দাদরা না বাজিয়ে। একটু না হয় শুনে নিতি উল্টো পাল্টা চাঁটি মারা। তা না, বাবুদের পয়সায় টান পরলেই সটান যাবে ওই বেহায়া মাউড়াগুলোর কাছে। তারপর লাও নিজের কেস নিজে নাও… যত আগারওয়ালা, ঝুনঝুনওয়ালা, খান্ডেলওয়ালাদের দাপট… বুঝলি ভাই?

কিন্তু যতই বাড়াবাড়ি করুক, আমরা কিন্তু ভাই মেনে নেইনি কোনোদিনই। আমরা মধ্যবিত্ত… টিপিক্যাল ভদ্রলোক। আমাদের দিয়ে না ওইসব বেহুদা কাজকম্ম করাতে পারেনি কেউ। একটু মাঝে সাঁঝে ডায়মন্ড হারবার করলেও, আমাদের আপিসের কাজ কিন্তু চিরকাল সম্মানের, বুঝলি ভাই? কাকা বলছিল, লেজারে এন্ট্রি করতে ব্রিটিশ সায়েবদের কিন্তু দরকার হয়েছে আমাদেরই। সম্মান কিনা বল ভাই? ভাই ঠাকুর বলেছিলেন না – টাকা মাটি, মাটি টাকা! কোনোদিন এর বেচাল করিনি ভাই, ওই মেড়োদের মতন। আর কি বেকায়দা মাল দ্যাখ মেড়োগুলো… মর্নিং কলেজে পড়লাম, ওরাও ছিল কিন্তু। সকাল পৌনে দশটার সময়ে কলেজ ভাঙলে বলে নাকি চাঁদনি মার্কেটে বেওসা করতে যাবে। পারেও মাইরি। ওই ভোরে উঠে কোথায় কলেজ করে, চারটি ইংলিস অনার্স দেখে, একটা লেবু চা, দুটো ফ্লেক খেয়ে, একডালিয়ার মিনি ধরে বাড়ী ফিরে একটু মাছ-ভাত খেয়ে ঘুমোবি… বলে কিনা চাঁদনিতে বেওসা। পাগল কি ওদের লোকে এমনি বলে? সবকটা ব্যাটা মগনলাল মেঘরাজ… বুঝলি ভাই? আমরা হলাম ফেলুদা ব্যোমকেশ সিধু জ্যাঠার বংশ আর ওদের দ্যাখ ভাই… ফুল শালা জগত শেঠের ঝাড়! সরকার জেঠিমা ঠিকই বলতো রে। বলতো ব্যাটাদের দ্বারা দোকান করা ছাড়া আর কিবা হবে? লেখাপড়ায়ে, গান-বাজনায়ে তো লবডঙ্কা… এদের হবে – বড়বাজারমে কেনো আর বউবাজারমে বেচো। পার্ক সার্কাস – গড়িয়াহাটার এপারে আর তোমাদের আসা হচ্ছেনা!

কিন্তু ভাই! আজকাল নাকি গড়িয়াহাটা কি, ঢাকুরিয়া, সেলিমপুর, ছাড়িয়ে, সে নাকি বারুইপুর রাজপুর অবধি পৌঁছে গেলো ব্যাটারা। নর্থে নাকি ফুল ছয়লাপ কেস? আর আজকাল নাকি বহুত রংবাজ হয়ে গেছে ওরা? যাই বলিস, তোরা ভাই হেবি লাই দিয়েছিস কিন্তু। এখন বরদাস্তের বাইরে গেলে কি আর করা যাবে। তবে ভাই ছাড় ওসব। তোরা ওসব দিকে এক্কেবারে মন দিবিনা ভাই। আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ চা পাউরুটি আলুভাজা খেয়ে বসে যাবি আজকের বর্তমান কিমবা প্রতিদিনটা নিয়ে। প্রথমে টুক করে রাশিফলটা দেখে নিবি! তারপরে নর্থ ওয়েস্ট থেকে সাউথ ইস্ট অবধি চোখ বুলিয়ে নিবি, একটু খুঁটিয়েই দেখে নিস ভাই… সাড়ে দশটা নাগাদ ক্লাবে ঢোকার পর কেউ যেন তোকে তথ্য নিয়ে ভুলভাল কেস না দিতে পারে! ট্রাম্প, পুতিন, উত্তর কোরিয়ার ওই বাঁটকুল মুশকো মালটা, আর ভাই সিরিয়াটা কিন্তু ইম্পরট্যান্ট আর ট্রেন্ডিং যাচ্ছে এখন। আর ভাই মাথায়ে রাখবি, আজকাল কিন্তু কেউ ওই ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান নিয়ে বেকার ঘাঁটে না। একটু লাস্ট পেজটা মন দিয়ে ঝালিয়ে নিস… একটু করে ম্যানচেস্টার চেলসি বার্সেলোনা এইসব দিবি। কল্কাত্তার ছেলে না তুই?আর ভাল কথা ভাই! লেখাটা ছাড়িস না ভাই, গানটাও কিন্তু কন্টিনিঊ করিস। আমার দিব্যি রইল ভাই… আর ছাড়বিনা বিপ্লব… আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। একটা নতুন করে অ্যান্টি মেড়ো মুভমেন্ট শুরু করতো দেখি ভাই… আর শোন, দুপুরটা বেরোবিনা একদম, যা ‘লূ’ চলছে… ক্লাব থেকে একদম সোজা বাড়ী। একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা খাবি। সামান্য একটু শুক্তো, লাউ চিংড়ি আর চারা মাছের ঝোল-ভাত মুখে দিয়ে, পারলে খেয়ে উঠে ঘণ্টা খানেক একটু টান হয়ে নিস ভাই। বিকেলে আবার পার্টি অফিসে ক্যারম আছেনা? আর শোন ভাই… ওই মেয়েটার খবর কি রে? তোকে শেষ পর্যন্ত আই লাভ ইয়উ বলল? তবে কি জানিস ভাই? ওসব নিয়ে বেশী খাটিস না ভাই। মাঝেমাঝে একটু ডায়মন্ড হারবার টারবার রাখিস। কি জানিস ভাই, তোকে বলেই বলছি, ওটাই না জিন্দেগিতে আসল… জিন্দেগি একদম জমে ক্ষীর হয়ে যাবে। আর শোননা ভাই, চলনা একবার এই সামনের উইকএন্ডে দিঘা মেরে আসি। এসি গাড়ীতে যাব ভাই… ফুল ফ্রী। শুধু খাওয়াটা দিয়ে দিবি, ব্যাস! ওই সামনের বিল্ডিঙের সাত’তলার আগারওয়ালাটাকে জবাই করেছি। শালা মেড়ো। শালা টয়োটা ফরচুনার নামিয়েছে। পাড়ার ছেলেদের বাই রোড দিঘা নিয়ে যাবেনা মানে? ওর বাপ নেবে। পাড়া থেকে নয়ত গুড বাই করে দেব না! তবে মালটা না ভাই, একদম ভাল মাল, পুরো শান্ত মাল … জানিস ভাই! আর বেষ্ট কি বলতো ভাই? কোন ফালতু কমিটমেন্ট দেয়না। সেদিন ক্লাবে সকলের সামনে কমিট করল পয়লা বৈশাখের জন্য মাংস-ভাত খেতে ক্লাবে দেড় হাজার ডোনেশন দেবে… ঠিক কিন্তু দিয়েছে মাইরি। মালটার কথার দাম আছে। আর এসেছিল সন্ধ্যেবেলা… বলে কিনা বাঙগালী নও-ভর্শকে হার্দিক শুভ-কামনায়ে… দিতাম শালাকে এক, এত্ত ঝটাকসে দিমাগটা জ্বলে গেলো না ভাই… শালা এত বছর ধরে বাংলায়ে আছো, ব্যাটা প্রপার বাংলা বলতে কি খুব অসুবিধা হয়? বলতে যাচ্ছিলাম… কিন্তু বাপিদা ঢ্যামনাটা মাঝখান থেকে থামিয়ে দিল। বাপিদা কে দু’কিলো হলদিরামের কাজু বরফি দিয়ে গেছে বে! বাপিদা হেব্বি খুশ। আমাকে আবার ওখান থেকেই গোটা ছয়েক দিয়েছে… বাপিদা টা আমাকে খুব লাইক করে বুঝলি ভাই! আমি তো না খেয়ে প্যাকেট টা বাড়ী নিয়ে গেলাম ভাই! কাজু খেয়ে মা খুস, দাদা খুস, বৌদি ভাইঝি খুস… শুধু বাবা টা দেখলাম শালা গোমড়া! কি যে হয়েছে লোকটার! যদ্দিন না একটা ভাল কিছু হচ্ছে না ভাই, বাবা টা ওইরকম গাম্ভীর্য কেস দিয়ে যাবে মনে হয়! দেখি বাপি’দা কে দিয়ে ওই আগারওয়ালাটাকে বলাবো! ও ব্যাটার বহুত সোর্স!

One response to “জানিস ভাই # ১”

  1. Osadharon lekhata

    Like

Leave a comment